রফিকুল ইসলাম বাবু।
চাঁদপুরের বিভিন্নস্থানে গত কয়েক সপ্তাহর ব্যবদানে ১০ শিশু ধর্ষনের শিকার হয়েছেন। সুধীজনরা মনে করছেন সামাজিক ও পারিবারিক সচেতনতার অভাবেই এইসব শিশু নির্যাতনের ঘটনা ঘটছে। ৭ মার্চ মঙ্গলবার দিনেও চাঁদপুরের বিভিন্নস্থানে বিভিন্ন বয়সের ৪ শিশু ধর্ষিত হয়ে চাঁদপুর সরকারি জেনারেল হাসপাতালে এসে চিকিৎসা সেবা নিয়েছেন বলে জানা গেছে। আর এসব ঘটনা বিশ্লেষন করে মানুষ জনকে সর্তক থাকার আহবান জানিয়েছেন চাঁদপুরের পুলিশ সুপার শামসুন্নাহার। গত ৫ মার্চ রোববার রাতে মতলব উত্তর উপজেলার নিশ্চিতপুর গ্রামে ধর্ষন হওয়া ২য় শ্রেণির ছাত্রীকে চাঁদপুর সরকারি জেনারেল হাসপাতালে দেখতে যান পুলিশ সুপার শামসুন্নাহার। এসময় তিনি সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাবে বলেন বর্তমানে সামাজিক ও পারিবারিক সচেতনতার অভাবের কারনেই এমন শিশু নির্যাতনের ঘটনা ঘটছে। যেসব অপরাধীরা এসব নির্মম ঘটনা ঘটিয়েছে তাদের মধ্যে যারা এখনো পলাতক রয়েছে তাদেরকে খুব দ্রুত গ্রেফতার করে আইনের আওতায় এনে শাস্তি প্রদান করা হবে। এ ব্যাপারে কোন ছাড় নেই। এছাড়াও গত মাসে চাঁদপুর জেলার বিভিন্নস্থানে ৬ শিশু ধর্ষণের শিকার হয়েছে। এসব শিশুদের বয়স ৫ থেকে ১২ বছর বয়সী। এসব ধর্ষণের ঘটনায় দু উপজেলায় ২ ধর্ষণকারীকে আটক করা হয়েছে। আর বাকি ঘটনায় ধর্ষণকারীরা পলাতক কিংবা মামলা চলমান রয়েছে বলে জানা গেছে। এসব ঘটনাগুলো ঘটেছে ৯ ফ্রেব্রুয়ারি থেকে ২৫ ফ্রেব্রুয়ারি শনিবার পর্যন্ত চাঁদপুর জেলা শহরের হাজীগঞ্জ উপজেলা, ফরিদগঞ্জ, কচুয়া, চাঁদপুর সদর উপজেলার বালিয়া পূর্ব শ্রীরামদী, রঘুনাথপুর। এরমধ্যে গত ১০ ফ্রেব্রুয়ারি শুক্রবার সন্ধ্যায় চাঁদপুর হাজীগঞ্জ উপজেলার ২ নং বাকিলা ইউনিয়নের উত্তর শ্রীপুর গ্রামের সালাউদ্দিন,মিজি বাড়ির দুবাই প্রবাসী হারুন মিজির পুত্র সালাউদ্দিন মিজি (১৯) নামে যুবকের হাতে ৫ বছর বয়সী এক শিশু ধর্ষিত হয়। আর এ ঘটনাটি ঘটে ওই গ্রামের খালেক শেখের বাড়িতে। শিশুর মাতা খাদিজা বেগম জানান শুক্রবার সন্ধ্যায় সালাউদ্দিন মিজি তার শিশু সন্তান বৃষ্টিকে চিপস কিনে দেয়ার কথা বলে তার কাছ থেকে নিয়ে যান। তার ১ ঘন্টা পর সালাউদ্দিন তাকে তার মায়ের কাছে ফিরিয়ে দিয়ে যান। গোপনাঙ্গ থেকে রক্ত বের হতে দেখে ধর্ষনের বিষয়টি বুঝতে পারেন। ঘটনারদিন স্থানীয়রা অপরাধীকে আটকিয়ে রাখেন। পরে হাজীগঞ্জ থানা পুলিশ ওই এলাকা থেকে সালাউদ্দিনকে আটক করে থানায় নিয়ে যায়।গত ১৫ ফ্রেব্রুয়ারি বুধবার সন্ধ্যয় কচুয়া উপজেলার ভূঁইয়ারা গ্রামের মেহের আলী জমাদার বাড়ির আবুল কাশেম জমাদারের ছেলে ইব্রহিম জমাদারের হাতে ৭ বছর বয়সী তয় শ্রেণির এক ছাত্রী ধর্ষিত হয়। এ ঘটনায় ধর্ষনকারী মোঃ ইব্রহিম (১৪) কে আটক করে কচুয়া থানা পুলিশ।ধর্ষিত শিশুকে চাঁপুর সরকারি হাসপাতালে চিকিৎসার জন্যে ভর্তি করালে তাকে হাসপাতালে দেখতে যান অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মোহাম্মদ আশরাফুজ্জামান। ওই ছাত্রীর পিতা জানান তার কন্যা ওই গ্রামের প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ৩য় শ্রেণিতে পড়া শুনা করে। বুধবার সন্ধ্যায় একই বাড়ির আবুল কাশেমের ছেলে ইব্রাহিম তার শিশু মেয়েকে খেলার ছলে ঘর থেকে ডেকে নিয়ে বাড়ির পার্শ্ববতী বাগানে নিয়ে ধর্ষন করেন। পরে তার মেয়ে ঘরে ফিরে এসে একথা তাদেরকে জানালে তারা তার শরীরের আলামত দেখে ধর্ষনের বিষয়টি বুঝতে পেরে প্রথমে স্থানীয় মেম্বারকে জানিয়ে পরবর্তীতে কচুয়া থানায় একটি অভিযোগ দায়ের করেন। ৯ ফ্রেব্রুয়ারি পুরান বাজার পূর্ব শ্রীরামদী গ্রামের ফরহাদ বেপারীর পুত্র রায়হান বেপারীর হাতে ১২ বছর বয়সী এক শিশু ধর্ষিত হয়। তার পরিবার জানায় ওইদিন রাতে শিশুটি দোকান থেকে সদাই কিনে যাওয়ার পথে রায়হান তার মুখ চাপা দিয়ে কাদির গাজীর মসজিদের গলিতে নিয়ে তাকে ধর্ষণ করে। পরে বিষয়টি স্থানীয়ভাবে মিমাংসা করা হয় বলে জানা গেছে। ২৪ ফ্রেব্রুয়ারি শুক্রবার ফরিদগঞ্জ উপজেলার চরকুমারী গ্রামে সৈয়দ আহমেদ (৫৫) নামের এক বৃদ্ধের হাতে ধর্ষণের শিকার হন ১২ বছর বয়সী এক শিশু। তার পরিবার সূত্রে জানাযায় ওইদিন দুপুরে শিশুটি বাড়ির পাশ থেকে ছাগল আনতে গেলে বৃদ্ধ সৈয়দ আহমেদ তাকে মুখ চেপে ধরে জোর পূর্বক ধর্ষণ করেন। পরিবারের লোকজন তাকে চিকিৎসার জন্য চা৭দপুর সরকারি হাসপাতালে নিয়ে আসে। এবং ঘটনার পর পরই অভিযুক্ত বৃদ্ধ পলাতক রয়েছে বলে জানাযায়। এবং ২৫ ফ্রেব্রুয়ারি সদর উপজেলার বালিয়া ইউনিয়নের মধ্য বালিয়া গ্রামের ২ নং ওয়ার্ডে শুক্কুর খান (৩৫) নামের ব্যাক্তির হাতে ধর্ষিত হয় ১৪ বছর বয়সী ৭ম শ্রেণির স্কুল ছাত্রী। তার বাবা মা জানায় ঘটনার দিন রাতে তারা কেউ বাড়িতে না থাকায় শুক্কুর খান গভীর রাতে তাদের ঘরের বেলকির বেড়া ভেঙ্গে ঘরে প্রবেশ করে ওই ছাত্রীর মুখ চেপে ধরে ধর্ষনের চেষ্টা চালায়। এই ঘটনায় তারা চাঁদপুর মডেল থানায় একটি অভিযোগ দায়ের করলে অভিযুক্ত শুক্কুর খান পলাতক রয়েছে বলে তারা জানান। এছাড়াও ২০ ফ্রেব্রুয়ারি চাঁদপুর সদর উপজেলার রঘুনাথপুর গ্রামে ১৪ বছর বয়সী ও ২২ ফ্রেব্রুয়ারি ফরিদগঞ্জ উপজেলার বাকরা গ্রামে ৫ বছর বয়সী দু শিশু ধর্ষণের শিকার হয়ে চাঁদপুর সরকারি জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাসেবা নিয়েছে বলে জানা গেছে। এসব তথ্য চাঁদপুর সরকারি জেনারেল হাসপাতালের রেজিষ্ট্রি খাতা ও বিভিন্ন সুত্র থেকে জানা গেছে।
