চাঁদপুর জেলা বিএনপির পক্ষ থেকে প্রেস বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে গতকাল একটি বিবৃতি প্রদান করা হয়েছে। এতে বলা হয়েছে, কোটি কোটি মানুষের এই দেশটিতে একজনের নির্দেশে মহান মুক্তিযুদ্ধের মূলমন্ত্র গণতন্ত্র আজ তথাকথিত যৌথ বাহিনীর (বিজিবি, র্যাব, পুলিশ) বুটের তলায় পিষ্ট। বাংলার মানুষের মীমাংসিত ইস্যু সংবিধান থেকে নিরপেক্ষ তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা বিলুপ্ত করে বর্তমান শাসক দল গণতন্ত্রকে বস্তাবন্দী লাশে পরিণত করেছে। ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারি ভোটারবিহীন তথাকথিত সংসদ নির্বাচনের মধ্য দিয়ে একটি অবৈধ সরকার গঠন করে গণতন্ত্র নামক লাশের কফিনে শেষ পেরেকটি ঠুকে দেয়। শাসক দল অতীত বাকশালের মতো মানুষের বাক/ব্যক্তি স্বাধীনতা, সংবাদপত্র ও টেলিভিশনসহ সমস্ত মিডিয়াকে সরকারের আজ্ঞাবহ প্রতিষ্ঠানে পরিণত করে ফেলেছে। সরকার বিএনপিকে নিশ্চিহ্ন করার লক্ষ্যে জিয়া পরিবারকে উৎখাত করার গভীর ষড়যন্ত্রে লিপ্ত রয়েছে। বিএনপি চেয়ারপার্সন দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে দলীয় কার্যালয়ে অবরুদ্ধ করে বেগম খালেদা জিয়া ও ফখরুল ইসলাম আলমগীর সহ দেশব্যাপী বিএনপির নেতা-কর্মীদের বিরুদ্ধে হাজার হাজার মিথ্যা মামলা দিয়ে লাখো নেতা-কর্মীকে দীর্ঘদিন যাবৎ জেলের অন্ধকারে নিক্ষেপ করে নির্মমভাবে নির্যাতন করছে। শত শত নেতা-কর্মীকে গুম, খুন তথা সর্বশেষ বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব সালাউদ্দিন আহমেদকে গুম করে ফেলেছে। মোট কথা বর্তমান সরকার দেশটিকে মামলা-হামলা-গুম-খুনের অভয়ারণ্যে পরিণত করে গণতন্ত্রকে সম্পূর্ণরূপে অবরুদ্ধ করে রেখেছে। বুটের তলায় পিষ্ট অবরুদ্ধ গণতন্ত্রকে পুনরুদ্ধারের জন্য দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া দেশব্যাপী নানা শান্তিপূর্ণ কর্মসূচি ঘোষণা করছে এবং সারাদেশের মানুষ বর্তমানে গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের আন্দোলনে ব্যস্ত থাকাবস্থায় পুলিশ বাহিনী দিয়ে চাঁদপুর জেলা বিএনপির বিপ্লবী আহ্বায়ক জননেতা শেখ ফরিদ আহমেদ মানিক সহ চাঁদপুর শহরের সকল নেতা-কর্মী-সমর্থকদের বিরুদ্ধে শত শত মিথ্যা মামলা দিয়ে হয়রানি করছে। চাঁদপুর জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক অ্যাডঃ জাহাঙ্গীর হোসেন খান, জেলা ছাত্রদলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক কাজী ইব্রাহীম জুয়েল ও জেলা ছাত্রদলের বর্তমান আহ্বায়ক জননন্দিত ছাত্রনেতা ফয়সাল গাজী বাহারসহ শতাধিক নেতা-কর্মী চাঁদপুর জেল হাজতে নিক্ষিপ্ত অবস্থায় চাঁদপুর জেলা ও শহর বিএনপির নেতা-কর্মীদের মামলা-হামলার বেড়াজালে ফেলে সম্পূর্ণ হীন উদ্দেশ্যে ৫ জানুয়ারির ভোটারবিহীন সংসদ নির্বাচন ও উপজেলা পরিষদের নির্বাচনের মতো প্রহসন করার অসৎ উদ্দেশ্যে দীর্ঘ প্রায় ৫ বছর কালক্ষেপনের পর সরকারের আজ্ঞাবাহী নির্বাচন কশিন দিয়ে চাঁদপুর পৌরসভার নির্বাচন তফসিল ঘোষণা করছে। শাসক দলের সুদূরপ্রসারী ষড়যন্ত্রের কথা চাঁদপুর জেলা বিএনপি বুঝতে পেরে এবং দেশের নাজুক পরিস্থিতিতে এ সরকারের অধীনে কোনো অবাধ সুষ্ঠু নির্বাচন সম্ভব নয় বিধায় বর্তমান চাঁদপুর পৌরসভার প্রহসনের নির্বাচন প্রত্যাখ্যান ও বর্জন করার ঘোষণা দিয়েছে। চাঁদপুর জেলা বিএনপির নির্দেশে এবং অবাধ, সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ নির্বাচন হবে না বিধায় পৌরসভা নির্বাচনে বিএনপি থেকে মেয়র পদে মনোনয়নপত্র দাখিলকৃত নেতৃবৃন্দ তাদের মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার করেছে এবং অধিক সংখ্যক কাউন্সিলরও মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার করেছে। অর্থাৎ আসন্ন চাঁদপুর পৌরসভা নির্বাচনে মেয়র পদে বিএনপির কোনো প্রার্থী নেই। যেহেতু পৌরসভা নির্বাচন প্রত্যাখ্যানের কারণে বিএনপি সমর্থিত কোনো মেয়র প্রার্থী নেই সেহেতু বিএনপির সকল নেতা-কর্মী, সমর্থক, শুভাকাক্সক্ষী ও সর্বস্তরের জনগণকে আসন্ন চাঁদপুর পৌরসভা নির্বাচন বর্জন করার জন্য বিনীতভাবে অনুরোধ জানাচ্ছি। বিশেষ করে বিএনপির নেতা-কর্মীদেরকে নির্বাচনে কোনো প্রার্থীর পক্ষে কাজ করার প্রমাণ পাওয়া গেলে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর সাংগঠনিক ব্যবস্থাগ্রহণ করা হবে এবং অবৈধ নির্বাচনের পরবর্তীতে কঠোর কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে।
বিবৃতিতে স্বাক্ষরকারী চাঁদপুর জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়কবৃন্দ :
অ্যাডঃ সলিম উল্যা সেলিম, মাহবুব আনোয়ার বাবলু, দেওয়ান সফিকুজ্জামান, মুনীর চৌধুরী, কাজী গোলাম মোস্তফা, সেলিমুস্ ছালাম, আক্তার হোসেন মাঝি, খলিলুর রহমান গাজী, ফেরদৌস আলম বাবু ও অ্যাডভোকেট হারুনুর রশিদ।
