রফিকুল ইসলাম বাবু ॥ চাঁদপুরের আলোচিত নারী লোভী, পরকীয়া প্রেমিক নাছিরুল ইসলাম পিন্টু দেশ থেকে পালিয়ে যাওয়ার ফিরে আসলে বিমানবন্দরে ইমিগ্রেশন পুলিশ তাকে আটক করে চাঁদপুর জেলা গোয়েন্দা পুলিশের কাছে হস্তান্তর করেছে। নাছির উদ্দিন পিন্টু চাঁরদপুর শহরে নিজেকে একজন রাজনৈতিক দলের সক্রিয় সদস্য দাবি করে বিভিন্ন ধরনের অপকর্ম করে আসছিল। তার অপকর্মের মধ্যে সবচেয়ে বেশি অপরাধ ছিল পরস্ত্রী ও সুন্দরী তরুণীদেরকে নানাভাবে বসে এনে তাদের সম্ভ্রম হানী করত। এছাড়া সে নিজে শহরের কালি ও পাল বাজার এলাকায় সন্তাসী করত বলে এলাকাবাসী ও ভুক্তভোগীরা জানান। নাছিরুল ইসলাম পিন্টু এমন হাব-ভাবে চলতেন দেখলে মনে হতো যেনো কোন ধনাঢ্য ব্যক্তির সন্তান। কিন্তু এই হাব-ভাবের পেছনে লুকিয়ে ছিল মানুষ নামের অমানুষ জন্তুটি। ইদানিং কালে নাছিরুল ইসলাম পিন্টু ফেসবুক আইডিতে পরস্ত্রী ও অনান্য তরুণীদের সাথে অন্তরঙ্গ মূহুর্তের বেশ কিছু ছবি পোস্ট করা হলে ফেসবুকে যেনো পিন্টুর চরিত্র সম্পর্কে ভাইরাল হতে থাকে।
গত ১৯ ফেব্রুয়ারী সন্ধ্যায় ৭ টায় ৪১/৩৯ মেটারনিটি রোডের পিন্টুর বাসায় ঘটে গেল এক ঘটনা। তার প্রথম স্ত্রী মাহমুদা আক্তার ওই ঘটনার বাদী হয়ে স্বামী নাছিরুল ইসলাম পিন্টু ও তার পরকীয় প্রেমিকা ডাঃ আঃ মান্নানের কন্যা আবিদা তাহেরা লিমার বিরুদ্ধে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের ২০০০ সংশোধীত ২০০৩ এর ১১ (গ) ধারায় মামলা দায়ের করেন।
মামলার অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, মুসলিম শরীয়ত বিধান মতে হাজেরানা মজলিসে রেজিস্ট্রিকৃত কাবিননামা মূলে আমি বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হই। বিবাহের সময় পিন্টু ব্যবসা করিত। ব্যবসার উন্নতির লক্ষ্যে বিবাহের পর হতে আমি পিতৃালয় হইতে টাকা এনে দেওয়ার জন্য চাপ সৃষ্টি করিত। আমি তার কথা মত টাকা এনে না দিলে পারিবারিক বিভিন্ন অযুহাতে আমার উপর নির্যাতন করিত। সেই নির্যাতন সহ্য করতে না পেরে আমার পিতা-মাতাকে জানইলে আমার সুখের কথা চিন্তা করে নগদ ৫ লাখ টাকা দেয়। ওই টাকা পেয়ে কিছুদিন সুখে শান্তিতে সংসার করে। এরই মাঝে আমাদের নওরিন ইসলাম উর্মী ও তুর্জয় ইসলাম নামে দুটি সন্তান আছে। নারী লোভী ও পরধন লোভী এই পিন্টু। লোভের বসভূত হইয়া গত কয়েক মাস ধরে স্ত্রী মাহমুদা আক্তারের কাছে আবারো ৫ লাখ টাকা যৌতুক দাবী করে আসছিল। এ নিয়ে প্রতিনিয়তই সংসারে অশান্তি সৃষ্টি করে এবং মারধর করে। এক পর্যায়ে যৌতুক নিয়ে দ্বিতীয় বিবাহ করবে এবং আমাকে তালাক দিবে বলে হুমকি দেয়। গত ১৯ ফেব্রুয়ারী পিন্টু তার দাবিকৃত যৌতুকের টাকার জন্য পিরাপিরি করতে থাকে। এবং হুমকি দিয়ে বলে আজকের মধ্যে টাকা এনে না দিলে তাকে দেখে ছাড়বে। পিন্টু ও আবিদা তাহিরা লিমা পরকীয়া প্রেমে লিপ্ত লিমাকে বিভিন্ন ভাবে প্রলোভন দেখায় এবং তার মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক সম্পর্ক চলে আসছিল। ১৯ ফেব্রুয়ারী সন্ধ্যায় পিন্টু লিমাকে নিয়ে বাসায় আসে এবং বাসায় প্রবেশ করে যৌতুকের টাকা দাবি করে। টাকা না দেওয়া পিন্টু লিমা মাহমুদাকে বেদম মারধর করে জখম করে। তখন লিমা চিৎকার করে পিন্টুকে বলতে থাকে তুমি আমাকে বিবাহ করলে ১০ লাখ টাকা দেব। লিমার কথায় আরো ক্ষিপ্ত হয়ে আমাকে মারধর করে তালাক দেওয়ার হুমকি দিয়ে ঘর হতে বের করে দেয়। মাহমুদা আক্তার নিরুপায় হয়ে প্রফেসর বাড়ি মোল্লা বাড়ি রোডস্থ বাবার বাড়িতে আশ্রয় নেয়। মাহমুদার পরিবারের লোকজন পিন্টুর যোগাযোগ করলে সে জানিয়ে দেয় মাহমুদার সাথে সংসার করবে না। পারিবারিক ও স্থানীয়ভাবে মিমাংশা করার চেষ্টা করলে পিন্টু তা কর্ণপাত করে নি। বরং মাহমুদার পরিবারকে নানাভাবে প্রাণনাশের হুমকি দেয়। মাহমুদা বাদী হয়ে প্রথমে পুলিশ সুপার শামসুন্নাহার পিপিএমএর নিকট একটি লিখিত অভিযোগ দেয়। পরবর্তীতে বিচারপ্রার্থী হয়ে মাহমুদা নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে চাঁদপুর মডেল থানায় অভিযোগ দায়ের করেন। মামলা হওয়ার প্রেক্ষিতে নাছিরুল ইসলাম পিন্টু বাংলাদেশ পালিয়ে সৌদি আরবে চলে যায়। এক মাস মাস সৌদিতে থাকার পর ২১ মার্চ দেশে ফিরে আসলে হযরত শাহ জালাল বিমান বন্দরে ইমিগ্রেশন পুলিশ তাকে আটক করে চাঁদপুর জেলা গোয়েন্দা পুলিশের কাছে হস্তান্তর করে। নাছিরুল ইসলাম পিন্টুকে চাঁদপুর আদালতে প্রেরণ করলে বিজ্ঞ বিচারক তাকে জেলা হাজতে পাঠায়। পিন্টুর আটকের খবর শহরের বিভিন্ন পাড়া মহল্লায় ছরিয়ে পড়লে যেনো ভুক্তভোগীদের মাঝে স্বস্তি ফিরে এসেছে। পিন্টু আটকের বিষয়টি জানার পর তার সাঙ্গ-পাঙ্গরা তাকে পুলিশের কাছ থেকে জোড় চেষ্টা তদবির চালায়। আটক পিন্টুর বিরুদ্ধে মাদক, মারামারি, চাঁদাবাজিসহ বেশ কিছু মামলা রয়েছে বলে স্থানীয়রা জানায়।
