শাহায়ারির খান কৌশিক ॥ চাঁদপুর আঞ্চলিক পার্সপোর্ট অফিসে দালাল চক্রদের দমন করলেও থেমে নেই চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারীর পার্সপোর্টের দালালী। পাসপোর্ট করিয়ে দেওয়ার নামে ফাইল প্রতি ১২শ টাকা করে মাসে লক্ষ লক্ষ টাকা অবৈধভাবে হাতিয়ে নেওয়ার গুরুত্বর অভিযোগ উঠেছে পার্সপোর্ট অফিসের চতুর্থ শ্রেনির কর্মচারী বাসুদের বিরুদ্ধে। বাসুদেব দীর্ঘদিন পার্সপোর্ট অফিসে চাকরী করে তার নির্ধারিত কয়েকজন বহিরাগত দালাল চক্ররের মাধ্যমে অসহায় দূরদূরান্ত থেকে আসা গ্রাহকদের হয়রানি করে মোটা অংকের টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে । পার্সপোর্ট কর্মকমর্তা (এডি) বিপুল কুমার গোস্বামী কাছে ভূক্তভোগী গ্রাহকরা এই দুর্নীতিবাজ বাসুদের বিরুদ্ধে বেশ কয়েকবার অভিযোগ করলেও তিনি তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা না নেওয়ায় জনমতে মিশ্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়েছে। পার্সপোর্ট কর্মকর্তা কৌশলে পার্সপোর্ট অফিসের স্বচ্ছতা প্রমাণ করার জন্য বহিরাগত দালালদের প্রশাসনের মাধ্যমে দমন করলেও তার ভিতরে কর্মচারী ও আনসারদের পার্সপোর্টের দালালী বন্ধ করেনি।
মঙ্গলবার দুপুরে সরজমিনে গিয়ে জানা যায়, সুমন নামে এক গ্রাহক সোনালী ব্যাংকে টাকা জমা দিয়ে পার্সপোর্ট করার জন্য প্রয়োজনীয় কাগজপত্র নিয়ে পার্সপোর্ট অফিসে আসে। এসময় তার কাগজপত্র সমস্যা রয়েছে বলে, চতুর্থ শ্রেণির কর্মকর্তা বাসুদে অতিরিক্ত টাকা লাগবে বলে তাকে জানায়। পরে তার কাছ থেকে ১২শ টাকা নিয়ে দ্রুত কাজ করে দিবে বলে তাকে পাঠিয়ে দেয়। এসময় ভুক্তভোগী সুমন উপস্থিত প্রিন্ট মিডিয়া ও ইলেকট্রিক মিডিয়ার কয়েকজন সাংবাদিককে ঘটনাটি জানায়।
চতুর্থ শ্রেণির কর্মকর্তা বাসুর্র্দে পার্সপোর্টের দালালীর ঘটনাটি (এডি) বিপুল কুমার গোস্বামীকে জানালে তিনি বিষয়টি মিথ্যে বলে অবহিত করেন। পরে সুমনের দেওয়া পার্সপোর্টেও কাগজপত্র দেখালে তিনি থমকে গিয়ে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিবে বলে জানায়।
এই ব্যাপারে পার্সপোর্ট অফিসের চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারীর বাসুদের কাছ জানতে চাইলে তিনি বলেন, গ্রাহকদের কাছ থেকে টাকা নেওয়া বিষয়ে আমার চেয়ে পার্সপোর্ট কর্মকর্তা বিপুল কুমারল গোস্বামী ভালো জানে তাকে জিজ্ঞাসা কুরুন। এই বলে তিনি তার কাছে নিয়ে যায়। পার্সপোর্ট কর্মকর্তা পূর্বেও মতো আবারো সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিবে বলে জানিয়ে শান্তনা দিয়ে তাকে তার কক্ষে চলে যেতে বলে।
একটি সূত্র জানায়, পার্সপোর্ট কর্মকর্তা বিপুল কুমার গোস্বামী চাঁদপুর আঞ্চলিক পার্সপোর্ট অফিসে আসা গ্রাহকদের কাছ থেকে তার প্রতিনিধি চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারীর মাধ্যমে ফ্ইাল প্রতি ১১শ টাকা থেকে ১২শ টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে। তিনি দালালদের প্রতিহত করে নিজেই তার কর্মচারীরে দালাল বানিয়ে মাসে লক্ষ লক্ষ টাকা অবৈধভাবে হাতিয়ে নেওয়ার গুরুত্বও অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে।

