চাঁদপুর নিউজ রিপোর্ট
কোনো পরিবহন করতে না পেরে লোকসানের মুখে শেষ পর্যন্ত চাঁদপুর-শরিয়তপুর ফেরি রূটের দুটি ফেরিকে অন্যত্র নিয়ে যাওয়া হয়েছে। চট্টগ্রাম ও সিলেটের সাথে দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের প্রায় ২৫ জেলার বিভিন্ন যানবাহন এ রুটে চলাচল গত ১৩ দিন ধরে বন্ধ রয়েছে।
গত ২৮ অক্টোবর রাতে অতিরিক্ত রড বোঝাই একটি ট্রাক শরিয়তপুর মহাসড়কের চরসেনসাস ইউনিয়নের বালারবাজার বেইলি ব্রিজটি ভেঙ্গে নদীতে পড়ে যায়। ট্রাকটি চট্টগ্রাম বন্দর থেকে বরিশালের মঠবাড়িয়া যাচ্ছিলো। এ দুর্ঘটনার ফলে চট্টগ্রাম, মংলা সমুদ্র বন্দর ও ভোমরা স্থল বন্দর এবং সিলেট ও চট্টগ্রাম থেকে খুলনা, বরিশাল ও বৃহত্তর ফরিদপুরের প্রায় ২৫টি জেলার সঙ্গে সড়ক যোগাযোগ সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে পড়ে। বেইলি ব্রিজটি দুর্ঘটনার দুদিন পর থেকে মেরামতের কাজ শুরু করে শরীয়তপুর সড়ক ও জনপথ বিভাগ। কিন্তু অত্যন্ত ধীরগতিতে কাজ চলায় দৃশ্যমান কোনো উন্নতি হচ্ছে না ব্রিজ মেরামতে।
এদিকে ব্রিজটি ভেঙ্গে পড়েছে এ খবর জেনেও ৯ নভেম্বর সকাল পর্যন্ত হরিণাঘাট কর্তৃপক্ষ ভুল তথ্য দিয়ে শতাধিক পণ্য বোঝাই ট্রাক পার করেছে। এর ফলে এসব মালবাহী ট্রাক শরিয়তপুরের নরসিংহপুর ফেরিঘাট থেকে বালারবাজার পর্যন্ত প্রায় সাড়ে ৪ কিলোমিটার রাস্তা জুড়ে আটকা পড়ে আছে আজো। এই ট্রাকগুলো পেছনেও যেতে পারছে না, সামনেও যেতে পারছে না। দুর্ঘটনার পর থেকে রাস্তার উপর পড়ে আছে। উভয় সঙ্কটের মাঝে পড়ে প্রায় ৭শতাধিক ট্রাকের চালক-হেলপাররা চরম নিরাপত্তাহীনতার মধ্য দিয়ে ভোগান্তি পোহাচ্ছে। নাওয়া-খাওয়া হতে শুরু করে অবর্ণনীয় সমস্যার মাঝে তারা গাড়ি নিয়ে দিনের পর দিন সেখানে অবস্থান করছেন। ব্রিজ মেরামতে শ্লথগতির কারণে আগামী এক মাসেও এই ব্রিজটি সচল হওয়ার সম্ভাবনা নেই বলে জানান নরসিংহপুর ফেরিঘাট ম্যানেজার আবদুস সাত্তার। তিনি আরো জানান, প্রতিদিন দুই পাড়ের ফেরিতে ৫ লাখের উপরে টাকা লোকসান হওয়ায় এ রুটের ফেরি আরিচা ও শিমুলিয়ায় নিয়ে যাওয়া হয়েছে। চাঁদপুর হরিণাঘাট বিআইডবিস্নউটিসির ম্যানেজার ইমরান হোসেন জানান, এ রুটে ৩টি ফেরির মধ্যে ‘কলমিলতা’ ও ‘কস্তুরি’ গত সপ্তাহে এখান থেকে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। ফেরি ‘কেতকি’ এখনো হরিণাঘাটে রয়েছে। বেইলি ব্রিজটি চালু হলে ওই ফেরি দুটি এখানে চলে আসবে। তবে চাঁদপুরের হরিণা ফেরিঘাটে কোনো যানবাহন আটকা নেই বলে তিনি জানান।
