স্টাফ রিপোটার ॥ চাঁদপুর সদর উপজেলা প্রশাসনের আয়োজনে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি রক্ষায় বিশেষ আইনশৃঙ্খলা সভা ৮ নভেম্বর সকাল ১১টায় উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত হয়। চাঁদপুর সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা উদয়ন দেওয়ানের সভাপতিত্বে অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন চাঁদপুর সদর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান দেওয়ান মো. সফিকুজ্জামান, চাঁদপুর প্রেসক্লাবের সভাপতি বিএম হান্নান, সাধারণ সম্পাদক সোহেল রুশদী,চাঁদপুর সদর ভাইস চেয়ারম্যান অ্যাড. শাজাহান মিয়া, চাঁদপুর সদর উপজেলা সহকারি কমিশনার (ভূমি) অভিষেক দাস ,চাঁদপুর সদর উপজেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি নুরুল ইসলাম নাজিম দেওয়ান, সাধারণ সম্পাদক আলী আরশাদ মিয়াজি ,শহর আওয়ামীলীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি রাধা গোবিন্দ ঘোষ,সাংগঠনিক সম্পাদক বাচ্চু পাটওয়ারী,চাঁদপুর শহর কমিউনিটি পুলিশিংয়ের সভাপতি শেখ মনির হোসেন বাবুল প্রমুখ । অন্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন রামপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মামুন পাটয়োরী,ইব্রাহীমপুর ইউপি চেয়ারম্যান মোঃ কাসেম খান ,সদর উপজেলা পূজা উৎযাপন কমিটির সাধারণ সম্পাদক লক্ষ্মন চন্দ্র সূত্রধর,সদর উপজেলা হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিন্টান ঐক্য পরিষদের সভাপতি বাসুদেব মজুমদার,সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোটের সভাপতি তপন সরকার , মসজিদের ইমাম মওলানা আব্দুস সালাম ,শিক্ষক মাওলানা আব্দুল মান্নান প্রমুখ । সভায় চাঁদপুর সদর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান দেওয়ান মো. সফিকুজ্জামান তার বক্তব্যে বলেন,প্রতিটি ইউনিয়নে মন্দির কমিটি গঠন করা হয়েছে । এ কমিটি স্থানীয়ভাবে মন্দির পাহাড়া দিবে । এ ব্যাপারে সকল দলমত জনমত তৈরী করতে হবে । চাঁদপুর সদর উপজেলা সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির শহর । সাম্প্রাদায়িক সম্প্রতির কমিটিতে মসজিদ কমিটির সভাপতি ,স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের অর্ন্তভুক্ত করতে হবে । চাঁদপুর সদর উপজেলার পরিবেশ ভালো । তারপরও এ সম্প্রীতি ধরে রাখতে হবে । তিনি বলেন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে অনেক সময় ধর্মীয় উস্কানিমুলক লেখা দিয়ে পরিবেশ নষ্ট করার চেষ্টা করা হয় । এর থেকে বিরত থাকতে হবে । এ বিষয়টি পুলিশ বিভাগকে নজর রাখতে হবে । সর্তক থাকতে হবে । জেলা প্রশাসন ও পুলিশ প্রশাসন এসব বিষয়ে সভা করেছে । বিষয়টি মনিটরিং করা হচ্ছে । অনেক সময় হিন্দু সম্প্রদায়ের জমিজমা বিরোধকে সাম্প্রদায়িক রুপ দেওয়ার চেষ্টা করা হয় । সে বিষটিও নজরে আনতে হবে ।
সভাপতির বক্তব্যে চাঁদপুর সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা উদয়ন দেওয়ান বলেন, ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত হানা যেমনি জঘন্যতম অপরাধ, তেমনি সম্প্রদায়িক হামলাও জঘন্য অপরাধ। আমরা সকল ধর্মের-বর্ণের মানুষ সুখে-দুঃখে, উৎসবে-আনন্দে একসাথে চাই। একে অপরের বিপদে এগিয়ে আসতে চাই।
তিনি বলেন, কোনো ব্যাক্তি বা গোষ্টি যাতে এই সম্প্রতি নষ্ট না করতে পারে সে দিকে সবাই খেয়াল রাখবেন। কেউ যদি এসব কাজে জড়িত হয় তবে তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ আইনী ব্যাবস্থা নেয়া হবে।
অন্যান্য বক্তারা বলেন, পবিত্র কোরআনে মহান আল্লাহ্ ঘোষণা বলেন, হাদিসে আছে, নবী বলেন, হে মুসলিম তোমরা যদি কোনো অমুসলিমের জান-মালে আঘাত করো, ধর্মীয় স্থাপনা, ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত করো তবে হাসরের মাঠে আমি তোমাদের বিরুদ্ধে অবস্থান নিবো। ইসলাম হলো একটি পরিপূর্ণ জীবন বিধান। ইতিহাস বলেন, আমরা ইসলামে পেয়েছি নবী, সাহাবা ও অলি-আউলিয়াদের সৎ-সুন্দর জীবনাদর্শ দেখে। ইসলাম কখনোই অস্ত্র দিয়ে প্রতিষ্ঠিত হয়নি। এতে প্রমাণিত হয় যে ইসলাম কখনোই কারো অনেক ধর্ম পালনে বাধা নেয়নি, বরং যে যার ধর্ম পালনে বাধা না দিতে বলেছে। যারা ইসলামের নামে অন্য ধর্মে উপাসনালয়ে হামলা করে তারা মূলতঃ ইসলামের আদর্শের অনুসারী নয়।
বক্তারা আরো বলেন, প্রত্যেক উপজেলায় মন্দির রক্ষায় কমিটি গঠন করা হয়েছে। প্রতিটি ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যানগণ সভা-সমাবেশ করলে এসব ইউনিয়নগুলোর মন্দির রক্ষা করা সম্ভব হবে। একটি চক্র স্বাধীনতার পরাজিত শক্তি উস্কানি দিয়ে হিন্দু সম্প্রদায়ের উপর হামলার ঘটনা ঘটাচ্ছে। চাঁদপুর হলো সম্প্রীতির শহর। এখানে এমন কোনো ঘটনার জন্ম যেনো না হয়। ৫নং রামপুর ইউনিয়নে ৭টি মন্দির রয়েছে। সব ক’টি মন্দির রক্ষায় কমিটি গঠন করা হয়েছে সবাইকে সাথে নিয়ে। বাবরি মসজিদ ভাঙ্গার পর চাঁদপুরে হিন্দু-মুসলমান সবাই একত্রিত হয়ে মন্দির রক্ষায় রাত জেগে পাহারা দিয়েছে। তাই চাঁদপুর হলো সম্প্রীতির শহর। তারা আরো বলেন, দুর্গন্ধময় ময়লা না ঘেঁটে চাপা রাখাই ভালো। সম্পত্তিগত বিরোধগুলোকে পুঁজি করে অতি উৎসাহী ব্যক্তিরা হামলার ঘটনা ঘটাচ্ছে। ফেসবুকে যদি কোনো ছবি দিয়ে বাজে কমা- করা হয় তাহলে সে আইটি মামলার আসামী হবে। সারাদেশের মধ্যে চাঁদপুরে সম্প্রীতির বন্ধন যুগ যুগ ধরে। এসব যারা করে তারা কোনোভাবেই ধার্মিক নয়, দেশপ্রেমিকও নয়। আমরা ধর্মান্ধ হবো না, ধার্মিক হবো। মানব জাতি হিসেবে যেখানে অন্যায়-অপরাধ সেখানেই আমরা প্রতিবাদ গড়ে তুলবো। তারা আরো বলেন, কোনো মাহফিল থেকে গিয়ে মন্দিরে হামলা হয়নি বা মন্দির থেকে গিয়ে মসজিদে হামলা হয়নি। তাই চাঁদপুরের এ সম্প্রীতি যেনো অটুট থাকে সেজন্যে আমাদের মধ্যে ঐক্য থাকতে হবে।
এ সময় অন্যান্যের মাঝে উপস্থিত ছিলেন ৪নং শাহমাহমুদপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান স্বপন মাহমুদ, ১০নং লক্ষ্মীপুর মডেল ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মোঃ সেলিম খান, ১৪নং রাজরাজেশ্বর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান হাজী হযরত আলী বেপারীসহ আরো অনেকে।
সভায় বিভিন্ন প্রস্তাবনা রেখে বিভিন্ন ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান, মাদ্রাসা শিক্ষক, মসজিদের ইমাম, হিন্দু-বৈদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদ ও পূজা উৎযাপন পরিষদ নেতৃবৃন্দরা বক্তব্য রাখেন।
