
হাজীগঞ্জ প্রতিনিধি : চাঁদপুরের হাজীগঞ্জে ৬ লাখ টাকা ও ৫ ভরি স্বর্ণ নিয়ে পরকীয়া প্রেমিকের হাত ধরে পালিয়েছে মালয়েশিয়া প্রবাসির স্ত্রী। এ ঘটনায় হাজীগঞ্জ থানায় সাধারণ ডায়েরি করা হয়েছে।
স্বর্ণালঙ্কার ও টাকা নিয়ে উধাও হয়ে যাওয়ার সময় প্রবাসী ৮ বছরের ফাহিম নামে শিশু সন্তানকে নিয়ে যায়। জানা যায়, হাজিগঞ্জ উপজেলার শ্রীপুর গ্রামের মোঃজাকির মেয়ে পান্না আক্তার এর সাথে ২০১১ সালে প্রেম করে একই গ্রামের মোঃ সোলেমান চৌধুরীর ছেলে মোঃখাজা আহমদের বিয়ে হয়। প্রেম ঘটিত কারণে বিয়ে হওয়ায় পান্নার পরিবারবর্গ মেনে নেয়নি।
গত ৫ বছর পূর্বে খাজা আহমেদ ওমানে চাকরির উদ্দেশ্যে দেশ ছেড়ে বিদেশ চলে যায়। খাজা আমাদের বাড়িতে প্যারালাইসিস মা সাথে প্রবাসীর স্ত্রী পান্না বেগম একই ঘরে বসবাস করত। তার দেখাশুনা ও খোঁজখবর নেওয়ার মত কেউ না থাকায় সুযোগ বুঝে প্রবাসীর স্ত্রী পান্না মোবাইল ফোনে অজ্ঞাত এক যুবকের সাথে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে তুলে।
পরকীয়ার টানে লোভে পড়ে ১৫ ভরি স্বর্ণ ও লক্ষাধীক টাকা নিয়ে ঘটনার দিন দুপুরে পালিয়ে যায়। ঘটনার দুইদিন পর পান্না বেগম ফোন করে প্রবাসী খাজা আহমেদকে হুমকি দিয়ে বলেন ঘটনাটি বাড়াবাড়ি করলে তার শিশু সন্তানকে মেরে প্যাকেট করে বস্তায় ঢুকিয়ে বাড়িতে পাঠিয়ে দিবে। চাঁদনীর শশুর জানান, ব্যাংক থেকে টাকা তোলার জন্য আমার ছেলের বৌ চেক নিয়ে বাপের বাড়ীতে আসে। বৃহস্পতিবার বাড়ীতে ফিরে না যাওয়ায় তাকে ফোন করলে সে জানায়, বাপের বাড়ীতে আছে শুক্রবার আসবে।
শুক্রবার দুপরে জানতে পারি সে আমাদের বাড়ীতে আসার উদ্দেশ্যে তাদের বাড়ী থেকে বের হয়েছে বিকেল পর্যন্ত না আসায় খোঁজ খবর নিতে থাকি। পরবর্তীতে জানতে পারি পৌরসভাধীন ১০নং ওয়ার্ড সাতবাড়িয়া গ্রামের ইদ্রিস বেপারী বাড়ীর বকুল মিয়ার ছেলে নসু’র সাথে পালিয়েছে। পরবর্তীতে থানায় জিডি করি। এলাকাবাসি জানায়, চাঁদনী একই সাথে কয়েকটি ছেলের সাথে প্রেম করে। অনেকেই বলে নসু’র সাথে পালিয়েছে। সেতো প্রেম করে অনেকের সাথে কার সাথে পালিয়েছে ঠিক বুঝতে পারছিনা।
এই ঘটনাটি মুঠোফোনে প্রবাসী খাজা আহমেদ জানায়, অসুস্থ মায়ের সাথে স্ত্রী একা বাড়িতে থাকতো। সেই সুযোগে স্ত্রী পান্না বাড়িতে থেকেই অজ্ঞাত যুবকের সাথে মোবাইল ফোনে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে তোলে। কিন্তু বিষয়টি কেউ বুঝতে না পারায় ঘটনার দিন দুপুরে টাকা স্বর্ণালংকার ও শিশু সন্তানকে নিয়ে উধাও হয়ে যায়। এখন শিশু সন্তানকে পুঁজি করে তাকে মেরে ফেলার হুমকি দিয়ে ব্ল্যাকমেইলিং করছে। যেকোনো সময় ছেলেকে নিয়ে বড় ধরনের দুর্ঘটনা হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
শিশু সন্তানকে উদ্ধার করতে সংশ্লিষ্ট প্রশাসন সহ সকলের সহযোগিতা কামনা করছি এবং অভিযুক্ত স্ত্রী পান্না বেগম এর দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানাচ্ছি। হাজীগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. আলমগির হোসেন রনি ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, এ বিষয়ে থানায় একটি নিখোঁজ ডায়েরি করা হয়েছে।
