রফিকুল ইসলাম বাবু
চাঁদপুর ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট সরকারি জেনারেল হাসপাতালে অফিস সহকারি কর্তৃক সদ্য নিয়োগপ্রাপ্ত সিনিয়র ষ্টাফ নার্সদের কাছ থেকে অফিসিয়াল কাজের বরাত দিয়ে বিপুল পরিমান অর্থ হাতিয়ে নেওয়ার ঘটনায় ৭ দিনের তদন্ত কমিটি গঠন হয়েছে। কমিটি গঠন করা হলেও, ঘটনার সঠিকতা উদঘাটনে তদন্ত কমিটির কতটুকু ভুমিকা থাকবে তা নিয়ে সংশয় রয়েছে জনমনে। কেননা সদ্য নিয়োগপ্রাপ্ত সিনিয়র ষ্টাফ নার্সরা মাত্র ১ দিনের ব্যবধানে কোন অজ্ঞাত হুমকির মুখে টাকা দেওয়ার কথা অস্বিকার করছে তা নিয়েও রয়েছে শংকা। সনিবার চাঁদপুর ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট সরকারি জেনারেল হাসপাতালে সরজমিনে গিয়ে দেখা যায় সকাল সারে ১০ টা থেকে দুপুর দেড়টা পর্যন্ত সাংবাদিকরা হাসপাতালে অবস্থান করলেও অফিস সহকারী ফারুকুলকে তার কক্ষে পাওয়া যায়নি। দীর্ঘ ২ ঘণ্টা সাংবাদিকরা অবস্থান করলেও অফিস সহকারী ফারুকুল আর অফিসে আসেনি। এ বিষয়ে তত্বাবধায়ক ডাঃ প্রদীপ কুমার দত্তের সাথে আলাপ করলে তিনি জানান, অর্থ আদায়ের ঘটনায় হাসপাতালের সহকারি পরিচালক ডাঃ গোলাম ফারুক, কনসালটেন্ট ডাঃ সালেহ আহম্মেদ ও নার্সেস সুপার ভাইজার কল্পণা দাস সহ মোট ৩ সদস্যর একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। উক্ত তদন্ত টিম আগামী ৭ দিনের মধ্যে ঘটনার বিষয়ে তথ্য প্রদান করবে। যদি তথ্য সঠিক হয় তাহলে অভিযুক্তের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে চাঁদপুর ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট সরকারি জেনারেল হাসপাতালে অফিস সহকারি কর্তৃক সদ্য নিয়োগপ্রাপ্ত সিনিয়র ষ্টাফ নার্সদের কাছ থেকে অফিসিয়াল কাজের বরাত দিয়ে বিপুল পরিমান অর্থ হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। বাংলাদেশ সরকার স্বাস্থ্যসেবা খাতে উন্নয়নের লক্ষে ইতি মধ্যে ব্যপক পদক্ষেপ গ্রহন করেছে। সে লক্ষে সারা দেশে বিভিন্ন সরকারি হাসপাতালের ন্যায় চাঁদপুর ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট সরকারি জেনারেল হাসপাতালে ১৪৭ জন সিনিয়র স্টাফ নার্সকে নিয়োগ দেয়। ১৫ জানুয়ারী নিয়োগ প্রাপ্তির পর তারা এ হাসপাতালে যোগদান করে। যোগদানের পর থেকে তাদের কাছ থেকে জনপ্রতি নানা ভাবে অর্থ আদায় করার পায়তারা শুরু করে অফিস সহকারি ফারুকুল ইসলাম সহ সংশ্লিষ্ট একটি চক্র। এ চক্রটির নের্তৃত্বে থাকা অফিস সহকারি ফারুকুল ইসলাম নানা কাজের বরাত দিয়ে সিনিয়র স্টাফ নার্সদের কাছ থেকে গত ১ মাস পুর্বে জনপ্রতি ২১০০ টাকা করে আদায় করে। যোগদানকৃত নার্সরা সকলে মিলে অসহায়ের মতো হয়ে প্রায় লাখ খানেকের মতো (৯৮৭০০) পরিমান নগদ অর্থ ফারুকের হাতে তুলে দেয়। এতেই ক্ষ্যান্ত হয়নি ফারুকুৃল ও সিন্ডিকেট চক্ররা । ইতিমধ্যে তারা ২য় ধাপে পুলিশ ভেরিভিশনের নামে আরো ৩ থেকে ৫ শ টাকা করে জন প্রতি আদায় করার জন্য আগাম বার্তা দিয়ে হুশিয়ারি দিয়েছে বলেও সুত্র থেকে জানাযায়। এ বিষয়ে আলাপকালে নিয়োগপ্রাপ্ত সিনিয়র স্টাফ নার্স অর্চনা, আছমা সহ নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক আরো কয়েকজনের সাথে আলাপকালে তারা জানান, আমরা সদ্য নিয়োগপ্রাপ্ত ৪৭ জন সকলে জনপ্রতি ২১শ টাকা করে একত্রে উঠিয়ে অফিস সহকারি ফারুকুল ভাইয়ের কাছে জমা দিয়েছি। এ টাকা তিনি আইডি কার্ড প্রদান ও অনলাইনে আমাদের কাগজপত্র পাঠাবেন বলে জানিয়ে নিয়েছেন। অফিস সহকারি ফারুকুল জানায়, তিনি আইডি কার্ড প্রদান ও বিভিন্ন কাগজ পত্র ঠিক করে দিতে হবে তাই এ টাকা নিয়েছে।
