
চাঁদপুর জেলা স্বাস্থ্য বিভাগ থেকে করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত সন্দেহ
সংগ্রহে করা নমুনার মধ্যে ৩৩ জনের রিপোর্ট এসেছে গতকাল শুক্রবার। এর মধ্যে
একজনের রিপোর্ট পজিটিভ। বাকি ৩২ জনের নেগেটিভ। আক্রান্ত ব্যক্তি ফরিদগঞ্জ
উপজেলার। বৃহস্পতিবার ও গতকাল শুক্রবার নতুন করে নমুনা সংগ্রহ করা ৫৭ জনের
রিপোর্ট ঢাকায় প্রেরণ করা হয়েছে।
গতকাল ১৭ এপ্রিল শুক্রবার সকাল ১১টায় চাঁদপুরের সিভিল সার্জন ডাঃ মোঃ
সাখাওয়াত উল্লাহ বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। সিভিল সার্জনের তথ্য অনুযায়ী এ
পর্যন্ত চাঁদপুর জেলায় করোনা ভাইরাসে আক্রান্তের সংখ্যা ১০জন। এর মধ্যে
আক্রান্ত একজনের মৃত্যু হয়েছে। তার মৃত্যুর পরে রিপোর্ট পজিটিভ জানা গেছে।
নতুন করে আক্রান্ত ব্যক্তি হচ্ছেন ফরিদগঞ্জ উপজেলার গল্লাক বাজার এলাকার।
তিনি করোনার উপসর্গ নিয়ে নারায়ণগঞ্জ থেকে বাড়িতে আসেন। তার নমুনা সংগ্রহ
করেন ফরিদগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেঙ্রে ল্যাব টেকনোলজিস্ট। তিনিও
করোনায় আক্রান্ত। আক্রান্ত যুবক চাঁদপুর সরকারি জেনারেল হাসপাতালের
আইসোলেশন ইউনিটে চিকিৎসাধীন রয়েছেন বলে জানা গেছে। একই ইউনিটে শেষ খবর
পাওয়া পর্যন্ত ৪জন ভর্তি রয়েছেন।
জেলায় বৃহস্পতিবার পর্যন্ত ঢাকা, নারায়ণগঞ্জ থেকে আগত ও আক্রান্তদের সংস্পর্শে যাওয়াসহ ১ হাজার ২শ’ ৬৩জন হোম কোয়ারেন্টিনে রয়েছেন।
এদিকে চাঁদপুর জেলা সিভিল সার্জন কার্যালয়ের তথ্য মতে গতকাল পর্যন্ত
চাঁদপুর জেলা থেকে মোট ১শ’ ৬৭ জনের নমুনা পরীক্ষার জন্যে ঢাকা পাঠানো
হয়েছে। এর মধ্যে রিপোর্ট এসেছে ১শ’ ৯ জনের। এই সংখ্যার মধ্যে ১১ জনের
রিপোর্ট পজিটিভ। অর্থাৎ তারা করোনাভাইরাসে আক্রান্ত।
অপরদিকে চাঁদপুর শহরের ব্যাংক কলোনীর মৃত শাহজাহান তপাদারের স্ত্রী
বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় মৃত্যুবরণ করেছেন। পরিবারের লোকজন জানান, তিনি
হার্টঅ্যাটাক হয়ে মৃত্যুবরণ করেছেন। দীর্ঘদিন তিনি অসুস্থ ছিলেন। নিহত ওই
নারীর গ্রামের বাড়ি সদর উপজেলার রামপুর ইউনিয়নের দক্ষিণ আলগী গ্রামের
তপাদার বাড়ি।
স্থানীয় ইউপি সদস্য আনোয়ার হোসেন তপাদার জানান, রাতেই গ্রামের বাড়িতে
শাহজাহান তপাদারের স্ত্রীর দাফন সম্পন্ন হয়েছে। বাড়ির কোনো লোকজন নামাজে
জানাজায় অংশগ্রহণ করেননি। তার আত্মীয়-স্বজন কয়েকজন একত্রিত হয়ে দাফন
সম্পন্ন করেছেন। পরিবারের লোকজন মৃত্যুর বিষয়ে সঠিক তথ্য প্রদান না করায়
কেউ নামাজে জানাজায় অংশগ্রহণ করেনি।
ফরিদগঞ্জে নতুন আক্রান্ত যুবকের বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শিউলি
হরি বলেন, আমাদের কাছে তার বিষয়ে পূর্ব থেকেই খোঁজ-খবর ছিলো। আজকে রিপোর্ট
আসার পরে শতভাগ নিশ্চিত হয়েছি। আক্রান্ত ব্যক্তির বাড়িটি লকডাউন করা হবে।
দুপুরের পরে স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যানের মাধ্যমে ব্যবস্থাগ্রহণ করার জন্য
নির্দেশ দেয়া হয়েছে।
