
প্রতিনিধি
সাগর ইসলাম, চাঁদপুরের শাহরাস্তি উপজেলার দেবকরা মারগুবা ড. শহীদুল্লাহ মেমোরিয়াল উচ্চ বিদ্যালয়ের বিজ্ঞান বিভাগের একজন মেধাবী ছাত্র। চলতি বছরে কুমিল্লা বোর্ডের অধীনে অনুষ্ঠিতব্য এসএসসি’র একজন পরীক্ষার্থী। সাগরের ক্লাস রোল ০৭ এবং এসএসসি’র রোল নাম্বার ১৭৫৯৪৯।
পরিক্ষা শুরুর দিনে বাংলা ১ম পত্র পরীক্ষা দেওয়ার কথা থাকলেও নিয়তির নির্মম পরিহাসে পরিক্ষা শুরুর মাত্র এক ঘণ্টা আগে পুলিশ তাকে আটক করে থানায় নিয়ে যায়। ফলে পরিক্ষার হলের পরিবর্তে সাগরকে যেতে হয় থানায়।
জানা যায়, প্রতিবেশীর সঙ্গে ঝগড়ার জেরে প্রতিপক্ষ সাগর ইসলামসহ তার পরিবারের আরও কয়েকজনকে আসামী করে থানায় অভিযোগ করে। অভিযোগ দায়েরের পর প্রতিপক্ষ আটকের ভয় দেখালে সাগর আত্মগোপন করে।
এদিকে পরিক্ষা শুরুর পূর্বেও প্রবেশপত্র সংগ্রহ না করলে স্কুলের প্রধান শিক্ষক আবুল বাশার প্রবেশ নিয়ে হলের সামনে সাগরের জন্য অপেক্ষা করতে থাকেন। গ্রেপ্তার আতংকে থাকা সাগর প্রধান শিক্ষককে পরীক্ষা দিতে গেলে ‘আটক হতে পারেন’ বলে নিজের শঙ্কার কথা জানালে প্রধান শিক্ষক তাকে নির্ভয়ে পরিক্ষার কেন্দ্রে আসতে বলেন।
প্রধান শিক্ষকের নির্ভয়ে সাগর কেন্দ্রের সামনে সিএনজি অটোরিক্সা থেকে নামামাত্র শাহরাস্তি থানার এসআই কামাল হোসেন তাকে আটকের পর চড় থাপ্পরসহ শারীরিক নির্যাতন করে থানায় নিয়ে যান।
বিষয়টি স্কুলের সভাপতি ইলিয়াস মিন্টুকে জানালে তিনি ইউএনও হাবিব উল্লাহ মারুফকে জানান। ইউএনও সাগরকে কেন্দ্রে আনার ব্যবস্থা করলেও ততক্ষণে দেরি হয়ে যাওয়ার অজুহাতে হল সচিব সাগরের পরীক্ষা নিতে অস্বীকৃতি জানান। পরে সাগরকে আবারও থানায় নিয়ে যাওয়া হয়।
সাগর পরিক্ষায় অংশ নিতে না পারায় নিজের ব্যর্থতার জন্য ক্ষমা চেয়ে স্কুলের সভাপতি ইলিয়াস মিন্টু জানান, বিদ্যালয়ের সভাপতি হিসেবে আমি একজন ছাত্রের জন্য কিছুই করতে পারলাম না। আমার ব্যর্থতার জন্য আমাকে ক্ষমা করবেন। কামাল হোসেনের মত পুলিশ সদস্যদের জন্য পুলিশের ভাবমূর্তি নস্ট হচ্ছে। এ সময় তিনি পুলিশের ঊর্ধতন কর্তৃপক্ষকে বিষয়টি ভেবে দেখার অনুরোধ জানান।
