ফরিদগঞ্জে এক যুবকের কাছ থেকে নগদ অর্থ, মোবাইল ও মোটরসাইকেল ছিনতাইয়ের পর তাকে আটকে রেখে মুক্তিপণ চাওয়া হয়েছে। পরে থানা পুলিশকে জানিয়ে ছিনতাইকারী পাঁচ যুবককে আটক করা হয়। এ ঘটনার সাথে কাশারা গ্রামের হাবিব নামে এক সেনা সদস্য জড়িত থাকার কথা জানা গেছে। সেনা আইন অনুযায়ী তাকে সেনাবাহিনীর কাছে হস্তান্তর করা হবে।
মঙ্গলবার রাতে ফরিদগঞ্জ উপজেলার কাশারা গ্রামে ছিনতাইয়ের এ ঘটনা ঘটে। সংবাদ পেয়ে থানা পুলিশ ছিনতাইয়ের ঘটনার সাথে জড়িত থাকার অভিযোগে শাওন (২১), সাবি্বর (২৪), হাবিব, রহমত উল্যা সৈকত (২২) ও ফাহাদ মাহমুদকে আটক করে। গতকাল বুধবার ঘটনার শিকার জুয়েল হোসেন বাদী হয়ে থানায় মামলা দায়েরের পর হাবিব ছাড়া অন্য চারজনকে আদালতে সোপর্দ করা হয়। আর মামলাও করা হয়েছে হাবিব ছাড়া অপর চারজনের বিরুদ্ধে।
থানায় দায়েরকৃত অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, বালিথুবা পশ্চিম ইউনিয়নের মৌলভী মোজাম্মেল হকের ছেলে জুয়েল হোসেন মঙ্গলবার রাতে তার বোনের জন্যে ঔষধ কিনে ফিরে আসার সময় পাইকপাড়া উত্তর ইউনিয়নের চৌরঙ্গী বাজারের কাছে পেঁৗছলে উক্ত পাঁচ যুবক জুয়েলকে থামিয়ে কথা বলার এক পর্যায়ে জুয়েলের কাছ থেকে নগদ অর্থ, মোবাইল সেট ও তার মোটরসাইকেলটি ছিনিয়ে নেয়। তারা তাকে আটকিয়ে রেখে মুক্তিপণ হিসেবে ৫০ হাজার টাকা দাবি করে। এক পর্যায়ে জুয়েল ৩০ হাজার টাকা দিতে স্বীকার হলে জুয়েলের বাড়িতে লোক পাঠায় টাকার জন্যে। কিন্তু টাকা না দিয়ে তারা থানা পুলিশকে অবহিত করলে পুলিশের অভিযানের মুখে ছিনতাই হওয়া মালামাল এবং জুয়েল উদ্ধার হয়।
ঘটনার সাথে জড়িত শাওন (২১), সাবি্বর (২৪), হাবিব, রহমত উল্যা সৈকত (২২) ও ফাহাদ মাহমুদসহ মোট ৫জনকে আটক করা হয়। এদিকে গতকাল বুধবার সকাল থেকেই আটককৃতদের ছাড়িয়ে নিতে স্থানীয় লোকজন থানা এলাকায় ভিড় করে। তারা সন্ধ্যা পর্যন্ত আসামীদের ছাড়িয়ে নিতে চেষ্টা চালায়। অবশেষে পুুলিশের অনড় অবস্থানের কারণে থানায় মামলা রেকর্ড (নং-১৯, তাং ২৫/০৭/২০১৮) হয় এবং হাবিব ছাড়া আটককৃত চারজনকে আদালতে প্রেরণ করা হয়। সেনা সদস্য হাবিবকে সেনা আইন অনুযায়ী সেনাবাহিনীর কাছে হস্তান্তর করা হবে বলে পুলিশ সূত্রে জানা গেছে।
এ ব্যাপারে ফরিদগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ শাহ আলম জানান, ছিনতাইয়ের ঘটনায় থানায় মামলা দায়ের হয়েছে।
