
মতলব (চাঁদপুর): চাঁদপুরের মতলবে বিভিন্ন এলাকায় পাবজি, ফ্রি ফায়ার গেমসের নেশায় আসক্ত যুবক তরুনেরা বিকেল ও সন্ধ্যা হলেই এরা রাস্তার পাশে আসক্ত হয়ে পড়ে এ নেশায়। এদের কাছে শুধু বিকেল আর রাত নয় যখন সময় পায় তখন শুরু করে এ খেলা। বিকেল থেকে শুরু করে রাত ১০টা পর্যন্ত রাস্তার পাশে বসে একাধারে খেলতে থাকে এ গেমস। দেখার কেউ নাই, এতে ধ্বংস হচ্ছে হাজার হাজার যুবক ছেলে।শুধু রাস্তায় নয় পথে ঘাটে, আনাচে কানাচে এ খেলায় আসক্ত হচ্ছে যুব সমাজ।
মতলব উত্তর ও মতলব দক্ষিণ উপজেলার প্রত্যেকটি ইউনিয়নের রাস্তাঘাটে এ চিত্র লক্ষ করা গেছে। এদিকে, মতলব শহরের কলেজগেইট, দীপ্তবাংলা, কাজলী সিনেমা হল, রাজমহল সিনেমাহল, সিঙ্গাপুর প্লাজার মোড়, পশু হাসপাতাল রোড, টিএন্ডটি মোড়, গোপালজিওর আখড়া, বাইশপুর ব্রীজ, মতলব সেতু, রয়মনেন নেছা মহিলা কলেজ, চরমুকুন্দি বালুর মাঠ, নতুন হাসপাতাল সংলগ্ন তালগাছ তলা, ঢাকিরগাঁও হাজীর ডোন, বারঠালিয়া, পানির টাংকি, আড়ং বাজার, ডাকঘর, মুন্সীরহাটসহ বিভিন্ন স্থানে ও রাস্তার পাশে বসে খেলছে গেমস।
এ গেমসের কারণে ধ্বংস হচ্ছে যুব সমাজ। এ গেমসে আসক্ত হয়ে পড়ছে তরুনরা। যার কারণে এদের মধ্যে থেকে হারিয়ে যাচ্ছে দেশপ্রেম। এদের দেশের প্রতি কোনো ভালোবাসা নেই, দেশকে এরা ভাবে না, পরিবারের দিকেও নেই কোনো টান। অপরদিকে, চলছে সারাদেশে লকডাউন। লকডাউনের কারনে এ সকল তরুন যুবকদের কাজ না থাকায় একসাথে জড়ো হয়ে এ গেমসে মত্ত হচ্ছে। বিভিন্ন পাড়া মহল্লায় উঠতি বয়সের স্কুল কলেজে পড়–য়া শিক্ষার্থী, গৃহবধু ও সাধারন মানুষের নিরাপদে চলাফেরা করতে বিঘœ সৃষ্টি হচ্ছে। পাবজি খেলার উপকারীতা: এ খেলায় কোনো উপকারিতা নেই শুধু শুধু সময় নষ্ট ছাড়া কিছুই না।
অপকারীতা: এ খেলায় অপকার ছাড়া কোনো উপকার নেই। এ খেলায় আসক্ত হয়ে ধ্বংস হচ্ছে তরুন তরুণীরা। শুধু ধ্বংস হচ্ছে না এদের মধ্যে থেকে হারিয়ে যাচ্ছে দেশপ্রেম। এদের প্রতি এদের কোনো ভালোবাসা নেই। দেশকে নিয়ে ভাবছে না এরা, যার কারণে দেশে অন্যায় অত্যাচার বেড়ে গেছে। এ নেশায় আসক্ত হয়ে ব্রেনের সমস্যা হচ্ছে, অনেকক্ষন ফোনের দিকে চেয়ে থাকার কারণে চোখে সমস্যা সৃষ্টি হচ্ছে। নষ্ট হচ্ছে সময়। এ গেমস খেলতে গেলে প্রয়োজন হয় মেঘাবাইটের। এমবি কেনার জন্য প্রয়োজন। যার কারণে ব্যয় হচ্ছে অর্থের। এই গেমসে বেশি আসক্ত হচ্ছে তরুণ তরুণী। আর তরুণ তরুণীরা বেশির ভাগ বেকার যার কারণে এমবি কিনতে যখন টাকায় সমস্যা হয়, তখন এরা চুরি ছিনতাইয়ের দিকে বেশি ধাবিত হয়। এতে তরুণ তরুণীদের সাথে সমস্যায় পড়েছে তার পরিবার। এভাবেই এ গেমসের কারণে ধ্বংস হচ্ছে এদেশের তরুণ প্রজন্ম। গেমসে আসক্ত হচ্ছে যারা: বেশিরভাগ স্কুল কলেজে পড়ুয়া ছেলেমেয়েরা, এবং বেকার অবসর সময় কাটানো মানুষ।
যে কারনে এ গেমসের দিকে ধাবিত হচ্ছে তরুন প্রজন্ম : হতাশা, বিভিন্ন তরুণ আছে যারা বেকার সমস্যায় ভুগছে তারা পাচ্ছে না চাকরি বা কাজ। এ কারণে সময় কাটানোর জন্য আসক্ত হচ্ছে এ নেশায়। অবসর, যেহেতু দীর্ঘদিন করোনাভাইরাস সমস্যার কারণে স্কুল কলেজ বন্ধ, তার কারণে তরুণ তরুণীরা অবসর সময় পার করার জন্য এ গেমস খেলছে। এই গেমস খেলার কারণে একসময় আসক্ত হয়ে পড়ছে গেমসের দিকে। তরুণ প্রজন্মের গেমসের আসক্তি থেকে
মুক্তির উপায় : প্রাথমিক পর্যায়ে প্রশাসনিকভাবে ব্যবস্থা নিতে হবে। নতুন আইন পাশ করতে হবে। সন্ধ্যার পরে ছেলেমেয়েদের বাহিরে বের হতে দেওয়া যাবে না, এজন্য পারিবারিক ব্যবস্থা নিতে হবে। পরিবারের লোকজনকে সচেতন হতে হবে। তরুন প্রজন্মকে নিয়ে বিভিন্ন সভা সেমিনার করতে হবে। তাদেরকে গেমসের কুফল সম্পর্কে বুঝাতে হবে। তাদের ভিতর দেশপ্রেম জাগ্রত করতে হবে। তাদের নিয়ে বিভিন্ন বিনোদনমুলক সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান করতে হবে। সবশেষে স্কুল কলেজ খুলে তাদেরকে লেখা পড়ার দিকে মনোনিবেশ করতে হবে।
সংবাদদাতা/চাঁদপুরনিউজ/
