রফিকুল ইসলাম বাবু মোঃ জামাল হোসেন
শাহরাস্তিতে আনোয়ার উল্যা (৮৫) নামের এক গ্রাম্য চিকিৎসকে জবাই করে হত্যা করেছে দুর্বৃত্তরা। শুক্রবার ভোর রাতে মেহের উত্তর ইউপির ৫নং ওয়ার্ডের বানিয়াচৌঁ বাস স্ট্যান্ড এলাকার ডাক্তার বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে।
নিহতের পরিবার ও এলাকাবাসী জানায়, ওই বাড়ির মৃত আব্দুল মজিদের পুত্র মোঃ আনোয়ার উল্যা প্রতিদিনের ন্যায় রোগী দেখা শেষ করে রাতের খাওয়ার খেয়ে ঘুমিয়ে পড়ে। সকালে স্থানীয় পাশ্ববর্তী বাড়ির জনৈক শাহাদাৎ চা খেতে এসে চা দোকানি তোরাব আলীকে (৭৫) ঘুম থেকে উঠায়। ওই সময় তোরাব আলী দোকান থেকে বেরিয়ে আনোয়ার উল্যার দোকানের সামনে কাউকে পড়ে থাকতে দেখে। পরে তোরাব আলী ও শাহাদাৎ ডাক্তারকে জবাই অবস্থায় মৃত দেখতে পেয়ে ডাকচিৎকার দিলে পরিবারের সদস্যরা ছুটে এসে হতভম্ব হয়ে পড়ে। পরিবারের সদস্যদের আহাজারি ও হত্যা কান্ডের এ খবর চারদিকে ছড়িয়ে পড়লে লাশ দেখতে হাজার হাজার লোক নিহতের বাড়িতে ভিড় জমায়। ওই সংবাদ পেয়ে শাহরাস্তি মডেল থানা ওসি তদন্ত নুর হোসেন মামুন ঘটনাস্থলে গিয়ে লাশের সুরত হাল তৈরি করে লাশ থানায় নিয়ে আসে। ওই সময় পুলিশ নিহতের পাশে একটি ধারালো ছুরি,কিছু টাকা ও একটি রসি দেখতে পায়।
এদিকে নিহতের পুত্র ডাক্তার মোশারেফ হোসেন জানায়, আমার বাবা দীর্ঘ ৬০ বছর যাবত রোগী দেখে মানবতা সেবা করে আসছেন। আমাদের জানামতে কাহারো সঙ্গে বাবার ও আমাদের সাথে কোন বিরোধ নেই। তাঁর পরও কি কারনে তাঁকে হত্যা করা হয়েছে আমরা বুঝে উঠতে পারছিনা। তবে যে টুকু ধারণা করছি কে বা কাহারা রোগী সেজে তাঁদের উদেশ্যে হাসিল করতে না পেরে, অথবা বাবা তাঁদেরকে চিনে পেলায় এ হত্যা কান্ড ঘটাতে পারে।
স্থানীয় ইউপি সদস্য মোঃ দেলোয়ার হোসেন জানায়, নিহত ডাক্তার আনোয়ার উল্যা নাওড়া কমিউনিটি ক্লিনিকের অবসর প্রাপ্ত উপ-সহকারি কমিউনিটি চিকিৎসক ছিলেন।
শাহরাস্তি মডেল থানা অফিসার ইনচার্জ মোঃ মিজানুর রহমান জানান, লাশ ময়না তদন্তের জন্য চাঁদপুর সদর হাসপাতাল মর্গে প্রেরন করা হয়েছে। এ বিষয়ে থানায় মামলার প্রস্তুতি চলছে। ঘটনাটি তদন্ত করে প্রকৃত অপরাধিদের চিহ্নিত করে তাঁদের আইনের আওতায় আনা হবে।
এ ঘটনা শুনে চাঁদপুর জেলা অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মোঃ আশ্রাফুজ্জামান ও সহকারি পুলিশ সুপার (হাজিগঞ্জ সার্কেল) মোঃ মঞ্জিল হোসেন ঘটনা স্থল পরিদর্শণ করেন।
