প্রতিনিধি
চাঁদপুরের শাহরাস্তিতে এক সালিশী বৈঠকের সিদ্ধান্তে ইব্রাহীম খলিল প্রকাশ হেঞ্জু (৩৪) নামে এক রিক্সা চালককে মাথা ন্যাড়া করে দেওয়া হয়েছে। শুক্রবার সকালে পৌর শহরের ১১নং ওয়ার্ডের সাহেব বাজার এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
ক্ষতিগ্রস্থ ব্যক্তি ও এলাকাবাসী সূত্রে জানা যায়, ওই ওয়ার্ডের ভাটুনীখোলা গাজী বাড়ির খলিলুর রহমানের পুত্র ২ সন্তানের জনক রিক্সা চালক মোঃ ইব্রাহিম খলিল বিগত ১ মাস পূর্বে তার রিক্সাযোগে একটি অজ্ঞাত পরিচয়ধারী মেয়েকে নিয়ে উপজেলার উয়ারুক বাজার এলাকায় যাওয়ার অপরাধে স্থানীয়রা তাকে খুঁজতে থাকে। লোকমুখে ওই অজ্ঞাত পরিচয়ধারী মেয়ের সাথে রিক্সাচালক শ্লীলতাহানী করেছে মর্মে পৌর শহরের কাজির কামতা গ্রামের সাহাবুদ্দিন পাটোয়ারীর পুত্র রিপন পাটোয়ারী তাকে শুক্রবার টামটা উচ্চ বিদ্যালয় এলাকা থেকে আটক করে ঠাকুর বাজার এলাকায় নিয়ে আসে। ওই সময় তাকে ঠাকুর বাজারস্থ তাজুল ইসলামের মুরগী দোকানে তাকে আটক করে রাখা হয়। দিনভর আটকের পর ওইদিন রাত সাড়ে ৮টায় তাকে স্থানীয় সাহেব বাজার এলাকার জহিরুল ইসলাম পাটোয়ারীর মুদি দোকানে নিয়ে বৈঠকে বসে। স্থানীয় ওয়ার্ড কাউন্সিলর নাজির হোসেন পাটোয়ারী, রিপন পাটোয়ারী, বাহার উদ্দিন বাবুর নেতৃত্বে বৈঠকে ইব্রাহিমকে ১০ হাজার টাকা জরিমানা, মাথা ন্যাড়া, জুতার মালা পড়িয়ে বাজার প্রদর্শণ ও সাদা কাগজে স্বাক্ষর নিয়ে মুচলেকা রাখার সিদ্ধান্ত হয়। ইব্রাহিম খলিল অসহায় গরীব হওয়ায় জরিমানার টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে তাকে ওই বাজারের শ্রীরুপ চন্দ্র শীলের দোকানে নিয়ে মাথা ন্যাড়া করে জুতার মালা পড়িয়ে পুরো বাজারে ঘোরানো হয়। পরে তার কাছ থেকে সাদা কাগজে স্বাক্ষর রেখে তাকে ছেড়ে দেয়া হয়। ওই সময় স্থানীয় শতাধিক উৎসুক জনতা ঘটনাস্থলে ভীড় জমায়।
এ বিষয়ে ক্ষতিগ্রস্থ ইব্রাহিম জানায়, ১ মাস পূর্বের অহেতুক একটি মনগড়া ঘটনা নিয়ে আমাকে আটক করে রাখা হয়। প্রায় ১২ ঘন্টা একটি দোকানে বদ্ধ রেখে মারধর ও নির্যাতন করা হয়েছে। পরে আটককৃতরা আমাকে সালিশে বৈঠকের সিদ্ধান্ত মোতাবেক মাথা ন্যাড়া করে জুতার মালা পড়িয়ে পুরো বাজার ঘুরিয়েছে। পরে তারা সাদা কাগজে স্বাক্ষর রেখে আমায় ছেড়ে দেয়। আমি নিতান্তই একজন অসহায় ও গরীব মানুষ। রিক্সা চালিয়ে ১ মেয়েকে টামটা আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয়ে ও ১ ছেলেকে হাফিজী পড়ানোর চেষ্টা করছি। অন্যায় ভাবে মিথ্যা অভিযোগে আমার উপর এ নির্যাতন করায় আমি লোকলজ্জায় আত্মহত্যা করার উপক্রম হয়েছে। ওই ঘটনায় আমি শাহরাস্তি থানায় ৩ জনকে বিবাদী করে একটি অভিযোগ দায়ের করেছি। আমি এ অন্যায়ের সু-বিচার দাবী করছি।
এদিকে স্থানীয় কাউন্সিলর নাজির হোসেন পাটওয়ারী জানান, বৈঠকে তার মাথা ন্যাড়া, জুতার মালা ও সাদা কাগজে স্বাক্ষর নেওয়ার সিদ্ধান্ত আমি দেইনি। কে বা কাহারা ওই সকল সিদ্ধান্ত দিয়েছে এবং তাকে মাথা ন্যাড়া করে বাজারে ঘুরিয়েছে তা আমি বলতে পারবো না।
শাহরাস্তি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (তদন্ত) মোঃ নূর হোসেন মামুন জানান, বিষয়টি অবগত হয়ে আমি সেখানে একজন অফিসারকে পাঠিয়েছি। নির্যাতনের স্বীকার ব্যক্তিকে থানায় এনে জিজ্ঞাসাবাদ করার পর ৩জনকে বিবাদী করে একটি লিখিত অভিযোগ দেয়া হয়েছে। তদন্ত করে ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।
শিরোনাম:
বুধবার , ২২ এপ্রিল, ২০২৬ খ্রিষ্টাব্দ , ৯ বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
এই ওয়েবসাইটের যে কোনো লেখা বা ছবি পুনঃপ্রকাশের ক্ষেত্রে ঋন স্বীকার বাঞ্চনীয় ।
