শাহারাস্তি উপজেলার ঐতিহ্যবাহী শিক্ষা প্রতিষ্ঠান সূচীপাড়া উচ্চ বিদ্যালয়টি নানা সমস্যায় জর্জরিত। শিক্ষক-অভিভাবক, ম্যানেজিং কমিটি ও এলাকার গন্যমাণ্য কতিপয় ব্যক্তিদের নোংড়া রাজনীতির অন্তরালে বিদ্যালয়ে সুশিক্ষার মনোরম পরিবেশ নষ্ঠ হওয়া সম্মূখীন-এমন অভিযোগ সংশ্লিষ্ট এলাকার সুশীল সমাজের।
জানা যায়, উক্ত এলাকার বিশিষ্ট শিক্ষানুরাগী, দানবীর মরহুম মোঃ ওয়ালী উল্যাহর হাত ধরে এ বিদ্যালয়টি ১৯৫৬ সালে প্রতিষ্ঠিত হয়। এর পর থেকেই প্রতিষ্ঠাতার পরিবারবর্গ উক্ত বিদ্যালয়ের হিতোষী ব্যক্তি হিসেবে অবির্ভূত হন। এর ধারা বাহিকতায় ২০০৭ সালে স্কুল প্রতিষ্ঠাতার পুত্র খোরশেদ আলমকে সর্বসম্মতিক্রমে ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি নির্বাচিত করেন স্কুল কর্তৃপক্ষ। ওই থেকে শুরু হয় বিদ্যালয়ের অবকাঠামোগত উন্নয়নের ধারা। হঠাৎ ব্যক্তি স্বার্থে হাত পড়ার কারণে বেশ কিছু ব্যক্তি বিদ্যালয়ের কথা মাথায় না রেখে সভাপতি ইস্যুতে নানা অযুহাত ও গুনজন রটাতে শুরু করেন। আর এতেই শুরু হয় বিভক্তিগত গোপন রাজনীতি। যাতে ক্রমাগত অবক্ষয়ের দিকে ছুটে যাচ্ছে শিক্ষার সুন্দর পরিবেশ।
সরেজমিনে জানা যায়, জজর্রিত সমস্যা গুলোর মধ্যে প্রধানত স্কুলের নিজস্ব কিছু জায়গা নামে বে-নামে দখল করে রেখেছে একই এলাকার কতিপয় ব্যক্তিবর্গ। প্রধান ও সহকারি শিক্ষক নিয়োগে জটিলতা। যার অন্তরালে দলীয়-নির্দলীয়, পেশী শক্তি, স্বজনপ্রীতি, কালো টাকাসহ নানা ঘটনা জড়িত। ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি ইস্যুতে খন্ডকালীন ৪র্থ শ্রেণীর মহিলা কর্মচারী কর্তৃক অশ্লিল মন্তব্য প্রকাশ, নিকটস্থ ৩ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ম্যানেজিং কমিটির সমন্বিত সভায় গৃহিত সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন না হওয়াসহ অন্যান্য সমস্যা।
বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক এটিএম সাইফুল ইসলাম বলেন, উক্ত বিদ্যালয়ে মাত্র ৫ মাস কর্মজীবনে বিদ্যালয় চলাকালীন বহিরাগতদের প্রবেশাধিকার সংরক্ষিত করেছি। বিদ্যালয় বাউন্ডির ভিতরে শান্তি-শৃঙ্খলার মধ্য দিয়েই প্রতিদিনের পাঠদান কর্মসূচী বাস্তবায়িত হয়। এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ৪র্থ শ্রেণির মহিলা কর্মচারীর বিরুদ্ধে আনিত কথাগুলো বাইরের লোকের কাছে শুনেছি। কিন্তু এ বিষয়ে কেউ লিখিত কিংবা মৌখিক অভিযোগ অথবা অবহিত করেন নি বিধায় স্কুল কর্তৃপক্ষ চাউর করা ঘটনাটি আমলে নেয়নি। বর্তমানে ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি মোঃ খোরশেদ আলম স্বভাবজাত শ্রেণির সম্ভান্ত পরিবারের এক ভদ্রলোক। কাজের বাইরে তেমন কোনো কথা হয় না। তিনি বিদ্যালয় হিতোষী ব্যক্তি। সময়ের মূল্যকে অনেক বেশী গুরুত্বদেন তিনি।
বিদ্যালয় ম্যানেজিং কমিটির বিদ্যোৎসাহী সদস্য ফয়েজ আহম্মেদ বলেন, বিদ্যালয়ের আয়াকে ঘিরে যারা এ রকম কুৎসা রটিয়েছে- তারা এক ধরনের চাঁদাবাজ প্রকৃতির লোক। আমি এ সুশীল সমাজের একজন হিসেবে কখনও চাইবো না ব্যক্তি কারণে সমষ্টিগত প্রতিষ্ঠানের বিন্দুমাত্র ক্ষতি হোক। এমন রটনায় কান না দেয়ার ব্যাপারে তিনি অনুরোধ জানান।
সূচীপাড়া ডিগ্রি কলেজ পরিচালনা পর্ষদের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি ছালেহ আহমেদ বলেন, সূচীপাড়া কলেজ, হাই স্কুল ও প্রাইমারী স্কুলটি একই গন্ডিতে গাঁথা। যে কারণে এক প্রতিষ্ঠানের সম্পত্তি অন্য প্রতিষ্ঠান ব্যবহার করছে। তবুও ৩ প্রতিষ্ঠানের ম্যানেজিং কমিটির গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গের সমন্বয়ে চলতি নভেম্বরের যে কোন তারিখে ২ জন সার্ভেয়ারের মাধ্যমে জায়গা সংক্রান্ত জটিলতা নিরসনের লক্ষ্যে মাপজরিপের সিদ্ধান্ত গৃহিত হয়।
বিদ্যালয় ম্যানেজিং কমিটির অভিভাবক সদস্য মোঃ দেলোয়ার হোসেন ওরফে নেছারী হুজুর বলেন, জায়গা সংক্রান্ত জটিলতা থাকলেও নিরসনের জন্য আমরা এক বার বসে একটি সিদ্ধান্ত নিয়েছি। ওই সিদ্ধান্ত মোতাবেক কর্মসূচী বাস্তবায়ন করলেই সহজে তার সমাধান ঘটবে। এক প্রশ্নের জবাবে তিনি আরও বলেন, বিদ্যালয় ম্যানেজিং কমিটির সভাপতির সততা ও উদারতার কারণে বর্তমানে তিনি নিজেই নিজের ইস্যু হয়ে দাঁড়িয়েছেন। অথচ ২০০৭ সালের পর থেকে ওনার হাত ধরে এ বিদ্যালয়ের অবকাঠামোগত উন্নতি হয়েছে অনেক। যিনি কর্তা তিনিই তো কর্তৃত্ব করবেন-এটাই হয়তো কারোর পছন্দ নয়-এই-যা—— আর কি—–?
স্থানীয় আওয়ামীলীগ নেতা সেলিম খান বলেন, আয়া সংক্রান্ত ঘটনাটি সঠিক নয়। তবে অন্য ঘটনায় বর্তমান সভাপতির বিরুদ্ধে একটি অভিযোগ লিপিবদ্ধ করা হয়েছে। যা এমপি মহোদয় বরাবর প্রেরণ করা হবে। এক প্রশ্নের জবাবে তিনি আরও বলেন, শিক্ষক নিয়োগকে কেন্দ্র করেই যত ঘটনা। এক নায়কতন্ত্র চালু করতে চেয়েছেন সভাপতি- যা আমরা এলাকার সাধারণ লোক হিসেবে মেনে নিতে পারিনা।
বিদ্যালয় শিক্ষক পার্থ সারথী চক্রবর্তী বলেন, আমি ২০০৩ সাল থেকে এ বিদ্যালয়ে রয়েছি। তবে ২০০৭ সালে বিদ্যালয় ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি মোঃ খোরশেদ আলম নির্বাচিত হওয়ার পর স্কুলের সার্বিক উন্নতি ঘটতে থাকে। শিক্ষক নিয়োগে তিনি সবসময় সততার পরিচয় দিয়ে যোগ্য ব্যক্তিকে প্রাধান্য দিয়েছেন। ম্যানেজিং কমিটির বর্তমান সভাপতি সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি জানান, তিনি দানবীর ব্যক্তি। যিনি দাতা তিনি কখনই গ্রহিতা হন না। ওনার কর্মদক্ষতা, যোগ্যতা ও বিচক্ষনতায় ঈর্শনীয় হয়েই আজ যে যা বলছেন- আর যে যা করছেন। স্কুলের প্রধান গেইট, শহীদ মিনার, ছাত্রদের সাইকেল স্ট্যান্ড, ছাত্রীদের টাইলস্ যুক্ত নামাজের ঘর, অত্যাধুনিক ২টি টয়লেট, দ্বি-তল বিশিষ্ট নতুন একটি ভবন, প্রধান শিক্ষকের আলাদা অফিস কক্ষ, বাউন্ডারী দেওয়ালসহ বহু উন্নয়নে ওনার অবদান স্বরণীয়।
বিদ্যালয়ে নিয়োগ প্রাপ্ত শিক্ষকদের সাথে আলাপে জানা যায়, বর্তমান সভাপতির আমলে ওনার মাধ্যমে কোন প্রকার নিয়োগ বাণিজ্য কিংবা নিয়োগে স্বজনপ্রীতি অথবা অযোগ্যের প্রাধান্য বিস্তার ঘটেনি। আর তিনি ব্যক্তি হিসাবে অত্যন্ত স্বাভাবিক ও সাধারণ প্রকৃতির লোক। কখনই ওনার ভিতর অহংকার কিংবা গরিমা পরিলক্ষিত হয়নি।
বিদ্যালয় ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি মোঃ খোরশেদ আলম বলেন, বিদ্যালয়টি অত্র এলাকার ঐতিহ্য বহন করে। আমার পিতার হাত ধরে বিদ্যালয়টি প্রতিষ্ঠিত হয়। যে কারণে আমি আমার ব্যক্তিগত অর্থায়ান ও নিজ উদ্যোগে যখন বা পেরেছি বিদ্যালয়ের অবকাঠামোগত উন্নয়নে নিজেকে সম্পৃক্ত করেছি। নিজ নামে ১৯ শতক জায়গা ক্রয় করেও ক্রয় ত্রুটির কারণে বিদ্যালয়ের নামে লিখে দিতে পারছি না। স্কুলের বিভিন্ন মিটিংয়ে আমি প্রত্যেকের সহযোগিতা চেয়েছি এ ব্যাপারে। আমার দ্বারা যদি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, শিক্ষক, শিক্ষার্থী, অভিভাবক এমনকি কোনো ব্যক্তি স্বার্থও নষ্ট হয় তাহলে আমি নিজেই এ পদ থেকে অব্যহতি গ্রহণ করবো। এ ব্যাপারে নোংরা রাজনীতির অন্তরালে কাদা ছোঁড়া-ছুড়ি কোনো প্রয়োজন নেই বলে তিনি উল্লেখ করেন। এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, বিদ্যালয়ের স্বার্থে আমার গৃহিত সিদ্ধান্তগুলো যখন ব্যক্তি স্বার্থে আঘাত করে তখন দেখা যায়- বিদ্যালয়ের স্বার্থ পাগল মানুষগুলোর আসল রূপ।
শিরোনাম:
শনিবার , ২ মে, ২০২৬ খ্রিষ্টাব্দ , ১৯ বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
এই ওয়েবসাইটের যে কোনো লেখা বা ছবি পুনঃপ্রকাশের ক্ষেত্রে ঋন স্বীকার বাঞ্চনীয় ।

