
শরীফ হোসেন ॥
পাহাড়ী ঢল এর ফলে হঠাৎ করে মেঘনার ফুলে উঠা জোয়ারের পানিতে হাইমচর উপজেলার প্রায় ৫০ হাজার মানুষ পানি বন্ধি হয়ে পড়েছে। পানি বন্ধিকতার ফলে বন্যা আকার ধারন করায় জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে।
উপজেলার হাইমচর, গাজিপুর, নীলকমল ও চরভৈরবীসহ ৪টি ইউনিয়নের সমগ্র এলাকা বর্তমানে পানি বন্ধি হয়ে আছে। এছাড়া উপজেলার আলগী উত্তর ও দক্ষিন ইউনিয়নের বেরিবাধ বহির্ভুত এলাকাও জোয়ারের পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় বন্যা দেখা দিয়েছে।
সরজমিন পরিদর্শনে গেলে দেখা যায়, জোয়ারের পানিতে ঘর বাড়ি পানি বন্ধি হয়ে আছে। জোয়ারের পানির ফলে বণ্যা দেখা দেওয়ায় মানুষের দৈনন্দিন কাজ কর্ম ব্যাপক ব্যাঘাত ঘটছে, কৃষি, সবজি ও পান চাষের জন্য বিখ্যাত হাইমচরের চর এলাকা ও নদী তীরবর্তী এলাকা ফসলি জমি তলিয়ে নষ্ট হয়ে গেছে। আক্রান্ত এলাকায় বিশুদ্ধ পানি ও খাবার সংকট দেখা দিয়েছে।
হাইমচরের মধ্য চরে অবস্থিত নীলকমল ইউপি চেয়ারম্যান হাজী ইয়াসিন আহমেদ রতন জানান, নীলকমলের মিয়ার বাজার, মাঝির বাজার, বাংলাবাজার, ঈশানবাল বাজার এলাকাসহ সমগ্র এলাকা পানিতে তলিয়ে গেছে। এই পানি বন্ধি অবস্থা আর দুএকদিন স্থায়ী হলে ভয়াবহ বিপর্যয় দেখা দিবে। এসকল এলাকার যোগাযোগ ব্যাবস্থা ও শিক্ষা ব্যাবস্থা চরম সংকট দেখা দিয়েছে।
মধ্য চরের আরেক ইউনিয়ন হাইমচর ইউপি চেয়ারম্যান ইসহাক খোকন বলেন, হাইমচর ইউনিয়নটি জোয়ারের পানিতে ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে। এখানে জনচলাচল ও স্বাভাবিক কাজকর্ম স্থবির হয়ে গেছে। পানি বৃদ্ধির পাশাপাশি হাইমচর ইউনিয়নে ব্যাপক নদী ভাঙ্গনও দেখা দিয়েছে।
মধ্য চরের গাজিপুর ইউপি চেয়ারম্যান ইসমাইল হোসেন গাজি জানান, বন্যার পানিতে মানুষজন উচু কিল্লাতে আশ্রয় নিয়েছে। মানুষ জনের খাবার পানিসহ কর্মসংকট দেখা দিয়েছে।
উপজেলার মেঘনা নদীর পশ্চিম অংশ ঈশান বালার ইউপি সদস্য মিজানুর রহমান সরদার ও খলিল মাতাব্বর জানান, জোয়ারের পানিতে বন্যা আকার ধারন করেছে ঈশান বালা এলাকায়। একদিকে মানুষ পানি বন্ধি অন্য দিকে মেঘনা নদী ব্যাপক ভাঙ্গন দেখা দিয়েছে। রাস্তা ঘাট, ব্রীজ, দোকান পাট, ঘর বাড়ি মেঘনা গর্ভে বিলীন হয়ে যাচ্ছে।
স্থানীয় চরভৈরবী ইউপি সদস্য দেলোয়ার হোসেন সরদার জানান, তার এলাকার আমতলী, টমটম ব্রীজ, চরভৈরবী নতুন বাজার, পুরান বাজার এলাকা, গাজি নগর ও জালিয়ারচরসহ সব এলাকা পানিতে তলিয়ে গেছে। এখানকার মানুষজন স্বাভাবিক জীবন যাপনে চরম দূর্ভোগ পোয়াচ্ছে। স্কুল ও মাদরাসায় পাঠদান ব্যাহত হচ্ছে। বিশুদ্ধ পানি ও খাবার সংকট দেখা দিয়েছে আক্রান্ত এলাকায়।
হাইমচরে জোয়ারের পানিতে তলিয়ে যাওয়া এলাকায় বন্যা আকার ধারন করার বিষয়ে উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) মোঃ আমিনুর রশিদ বলেন, বিষয়টি আমরা সরজমিন দেখছি, ইউপি চেয়ারম্যানদেরকে ক্ষয়ক্ষতি সম্পর্কে তালিকা প্রেরনের জন্য নির্দেশনা দেয়া হয়েছে।
হাইমচর উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান মোঃ নুর হোসেন পাটওয়ারী বলেন, আকস্মিক পাহাড়ী ঢল এর ফলে হাইমচরের ৪টি ইউনিয়নসহ বেড়িবাধ বাহির এলাকা জোয়ারের পানিতে ডুবে বন্যা আকার ধারন করেছে বলে স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা বিষয়টি জানিয়েছেন। সোমবার উপজেলা পরিষদ উন্নয়ন সমন্বয় সভায় বিষয়টি আলোচনা হয়েছে। ক্ষি গ্রস্ত বন্যা আক্রান্ত মানুষজনের পাশে দাড়ানোর জন্য সরকার ও জেলা প্রশাসনের সহায়তায় উপজেলা পরিষদের পক্ষ থেকে সকল ব্যাবস্থা গ্রহন করা হবে।
শিরোনাম:
সোমবার , ২৫ মে, ২০২৬ খ্রিষ্টাব্দ , ১১ জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
এই ওয়েবসাইটের যে কোনো লেখা বা ছবি পুনঃপ্রকাশের ক্ষেত্রে ঋন স্বীকার বাঞ্চনীয় ।
