হাইমচর উপজেলার আলগী দক্ষিণ ইউনিয়নের চরভাঙ্গা গ্রামের ৯ম শ্রেণীতে পড়ুয়া এক স্কুল ছাত্রীকে একই গ্রামের নান্নু গাজীর ছেলে রাসেল গাজী ও স্থানীয় ইউপি সদস্য কাউছার মিয়ার ভাতিজা রাসেদ ধর্ষণ করেছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় মেয়ের পিতা হাইমচর থানায় মামলার প্রস্তুতি নিচ্ছে।
জানা যায়, গত ১৮ জুলাই রাত ১০টায় চরভাঙ্গা গ্রামের মিজি বাড়ির ওই মেয়েটি কল থেকে পানি আনতে ঘরের বাইরে গেলে স্থানীয় প্রভাবশালী ইউপি সদস্য কাউছার মিয়ার ভাতিজা বখাটে রাসেদ মুখে কাপড় দিয়ে মেয়েটিকে নির্জন স্থানে নিয়ে গিয়ে তার সহযোগী রাসেল গাজীসহ ধর্ষণ করে। এদিকে মেয়েকে না পেয়ে বাবা তাকে হন্যে হয়ে খুঁজে কোনো সন্ধান না পেয়ে স্থানীয় ইউপি সদস্যকে অবহিত করেন। পরে বুধবার রাত ৯টায় উত্তর চরভাঙ্গা এলাকা থেকে মেয়েটিকে উদ্ধার করা হয়।
এ ব্যাপারে ঘটনার শিকার মেয়েটি জানায়, আমি রাতে পানি আনতে কলের পাড় গেলে রাসেদ আমার মুখে কাপড় দিয়ে টেনে হেঁচড়ে নিয়ে যায়। কিছুক্ষণ পর একটি দোকান থেকে রাসেল গাজী বের হয়ে আমার কাছে আসে। তারপর মুখে কি যেন মারে, আমি সাথে সাথে অজ্ঞান হয়ে যাই। রাত ২টায় আমার জ্ঞান ফিরে। তখন দেখি আমি তাদের জিলের পাড় টংয়ে আছি, আমার পরনে কোনো কাপড় ছিল না। আমি চিৎকার দেয়ার চেষ্টা করলে তারা দু’জন ছুরি দিয়ে মেরে ফেলার হুমকি দেয়। ঘটনাটি কাউকে না জানানোর জন্যে বলে এবং আমাকে বিয়ে করবে বলে আশ্বাস দিয়ে আমার বান্ধবীর বাড়িতে নিয়ে রেখে আসে। পরবর্তীতে তাদের কোনো খোঁজ না পেয়ে লোক লজ্জার ভয়ে আমি ঢাকার উদ্দেশ্যে রওনা হই। পথে কিছু লোক আমাকে চিনতে পেরে আমার বাবাকে খবর দেয়। আমার বাবা আমাকে নিয়ে কাউছার মেম্বারের কাছে নিয়ে যায়। মেম্বার আমাকে মোস্তাইক দিয়ে মেরে চামড়া উঠানোর কথা বলে আমাকে ভয়ভীতি দেখিয়ে বাড়িতে পাঠিয়ে দেয়। আমার বাবা গরিব বলে আমাকে চিকিৎসা ও আইনের আশ্রয় নিতে বাড়ি থেকে বের হতে দেয় নি ইউপি মেম্বার।
