হাজীগঞ্জ: হাজীগঞ্জ উপজেলা প্রকৌশলী পৌনে দুই কোটি টাকার কাজ পাইয়ে দিলেন দুই ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানকে। গুঞ্জন উঠেছে কাজ পাইয়ে দিতে ৮ লক্ষাধিক টাকার বাণিজ্য হয়েছে। কাজ পাওয়া প্রতিষ্ঠান দু’টি হলো মেসার্স আকবর হোসেন মৃধা ও মেসার্স রুহি দাস বণিক।
বৃহস্পতিবার উপজেলা প্রকৌশলীর কার্যালয়ে গিয়ে জানা গেছে, হাজীগঞ্জ উপজেলার ১নং রাজারগাঁও ইউনিয়ন ও ৩নং কালোচোঁ উত্তর ইউনিয়ন কমেপ্লেক্স নির্মাণের জন্যে ২০১২-১৩ অর্থ বছরে (স্বারক নং ১০২) ২৮ ফেব্রয়ারি উপজেলা দরপত্র কমিটি অনুমোদন দেয়। একই দিন দৈনিক ইনকিলাব ও নিউ এইজ পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের সিদ্ধান্ত হয়। বিজ্ঞপ্তিটি দৈনিক ইনকিলাবে ২ মার্চ এবং নিউ এইজ-এ ৩ মার্চ প্রকাশিত হয়।
কাজটি পেতে সিডিউল ক্রয় করেন ঠিকাদারী সিন্ডিকেটের মেসার্স আকবর হোসেন মৃধা ও জিএস ট্রেডার্স। অপর সিন্ডিকেটের মেসার্স রুহি দাস বণিক ও সিলভিয়া এন্টার প্রাইজ। ২১ মার্চ দরপত্র কার্যক্রম সম্পন্ন করা হয়।
জানা গেছে, জিএস ট্রেডার্স ও সিলভিয়া এন্টারপ্রাইজ প্রতিষ্ঠান দু’টির কাজের যোগ্যতা নেই।
দরপত্রে ১নং রাজাগাঁও ইউপি কমপ্লেক্সটি নেয় মেসার্স আকবর হোসেন মৃধা। যার প্রাক্কলন মূল্য ৮৬ লাখ ৮৬ হাজার ৮শ’ ৩৬ টাকা। ৩নং কালোচোঁ ইউনিয়ন কমপ্লেক্সটি নেয় মেসার্স রুহিদাস বণিক। যার প্রাক্কলন মূল্য ৯০ লাখ ৮৪ হাজার ১শ’ ৮৬ টাকা।
স্থানীয় অন্যান্য ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানের মালিকরা জানান, উপজেলা প্রকৌশলী সুকৌশলে টেন্ডার প্রক্রিয়াটি গোপন রেখে তা সম্পন্ন করেন। যার কারণে আমরা টেন্ডার প্রক্রিয়ায় অংশ নিতে পারিনি। মুলত তিনি দুইটি ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানকে কাজ দিতে প্রয়োজনীয় সব ব্যবস্থা করেন। এই কাজ দু’টি নিতে দুই সিন্ডিকেট প্রায় আট লাখ টাকা উৎকচ দেয় উপজেলা প্রকৌশলী আশরাফ জামিলকে।
মেসার্স আকবর হোসেন মৃধা জানান, কাজটি আমি নেইনি। এটি ওই ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আবদুল হাদী আমার লাইসেন্সে নিয়েছে।
মেসার্স রুহিদাস বণিক বলেন, টেন্ডার প্রক্রিয়ায় অর্থ বাণিজ্য হয়নি।
উপজেলা প্রকৌশলী আশরাফ জামিল বলেন, সব অভিযোগ মিথ্যা। টেন্ডার প্রক্রিয়ায় কোন অনিয়ম হয়নি।
