মতলব উত্তর: আমি আর স্কুলে যাব না, গেলে স্যার আমাকে আবার মারবে। এই উক্তিটি ৭ বছরের এক শিশু কন্যার। তার নাম সিনথিয়া। সে মতলব উত্তর উপজেলার দুর্গাপুর ইউনিয়নের মুন্সিরকান্দি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের দ্বিতীয় শ্রেণীর ছাত্রী। তার একটি পাঠ্য বই ছেঁড়া থাকার কারণে ঐ বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক এনামুল হক শিশু কন্যা সিনথিয়ার উপর অমানুষিক শারীরিক নিযার্তন করে। নির্যাতনের শিকার হয়ে শিশুটি ভয়ে ও জ্বরে আক্রান্ত হয়ে ৫ দিন যাবৎ স্কুলে যাওয়া বন্ধ করে দিয়েছে। সে আর স্কুলে যাবে না। কারণ, স্কুলে গেলে স্যার তাকে আবার মারবে সেই ভয়ে।
জানা যায়, গত ২৯ এপ্রিল সোমবার শিক্ষক এনামুল হক দ্বিতীয় শ্রেণীর পাঠদানের সময় সিনথিয়ার একটি বই ছেঁড়া দেখে। তাই সিনথিয়ার উপর ওই শিক্ষক রেগে যান। সিনথিয়ার অবুঝ ছোট ভাই বইটি ছিঁড়েছে বললেও শিক্ষক তার কথা না শুনে তার উপর ক্ষিপ্ত হয়ে বেত্রাঘাত করে। এক পর্যায়ে সিনথিয়া বেত্রাঘাত সহ্য করতে না পেরে অজ্ঞান হয়ে যায়। পরে খবর পেয়ে তার অভিভাবক এসে সিনথিয়াকে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে বাড়ি নিয়ে যায়।
শুক্রবার পর্যন্ত সিনথিয়া পুরোপুরি সুস্থ হয়ে ওঠেনি। বেত্রাঘাতের চিহ্নগুলো এখনো তার গায়ে ভাসছে ও ব্যথার কারণে জ্বরও রয়েছে তার। স্কুলে যাওয়ার কথা বললেই তার মনে শিক্ষকের বেত্রাঘাতের ভয় জাগে। তাই সে আর স্কুলে যেতে চায় না। কারণ স্কুলে গেলেই সেই শিৰক তাকে আবার বেত্রাঘাত করবে।
এ ব্যপারে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকা তৈয়বুন্নেছা বলেন, আমার বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক এনামুল হক দ্বিতীয় শ্রেণীর ছাত্রী সিনথিয়ার উপর যে বেত্রাঘাত করেছে তাতে ছোট শিশুটি ভয় পেয়েছে, ও ব্যথা সহ্য করতে পারেনি। আমি এ ব্যাপারে শিক্ষক এনামুল হককে কারণ দর্শানোর জন্য বলেছি। আমি জানতে পেরেছি, শিক্ষক এনামুল হক সিনথিয়ার বাড়িতে গিয়েছেও খোঁজ খবর নিয়েছে।
সিনথিয়ার বাবা ফারুক হোসেন জানান, ঐ ঘটনার পর থেকে আমার মেয়ে কিছু খেতে চায় না, ও জ্বরে আক্রান্ত হয়ে আছে। স্কুলেও যেতে চায় না। তার মনে যে ভয় ঢুকেছে তা কিছুতেই সরানো যায় না। তাই বড় চিন্তায় আছি।
