১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ মহান মুক্তিযুদ্ধের সময়ে এই দিনটি ছিল বাঙালি জাতির জন্য একটি কালো দিন। এ দিনে পাকিস্তানি হায়েনারা নির্বিচারে বাঙালি জাতিকে হত্যা করে। বর্তমান সরকার রাষ্ট্র ক্ষমতায় আসার পর এই প্রথমবারের মতো ২৫ মার্চক গণহত্যা দিবস ঘোষণা করেছে। জাতীয় ও আন্তর্জাতিকভাবে দিবসটি পালনের লক্ষে মন্ত্রী পরিষদ বিভাগ জারিকৃত এতদঃ বিষয়ে পরিপত্রের ‘ক’ ক্রমিকে অন্তর্ভূক্ত করেছে। সরকার বিভিন্ন জাতীয় ও আন্তর্জাতিক দিবস উদ্যাপনের লক্ষে ‘ক’ শ্রেণিভুক্ত দিবস হিসেবে ২৫ মার্চ গণহত্যা দিবস পালনে সিদ্ধান্ত নিয়েছে। দিবসটি পালনের লক্ষে চাঁদপুর জেলা প্রশাাসনের আয়োজনে গতকাল ২২ মার্চ বুধবার দুপুর ১২টায় জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে প্রস্তুতিমূলক সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।জেলা প্রশাসক ও মোঃ আব্দুস সবুর মন্ডলের সভাপতিত্বে ও অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মাসুদ হোসেনের পরিচালনায় সভায় সিদ্ধান্ত গৃহীত হয় ২৫ ও ২৬ মার্চ দিবসটির তাৎপর্য তুলে ধরে স্কুল ও কলেজে আলোচনা সভা যেনো করা হয়। তাহলেই শিক্ষার্থীরা ২৫ মার্চের গণহত্যা দিবসের ইতিহাস জানতে পারবে। ওই দিন রাত ১২টা ১ মিনিটে স্বাধীনতা দিবসের তপোধ্বনি অনুষ্ঠিত হবে। ২৫ মার্চ সকালে ৬টি স্কুল কলেজে আলোচনা সভা করা হবে। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলো হলো চাঁদপুর সরকারি কলেজ, চাঁদপুর সরকারি মহিলা কলেজ, পুরাণবাজার ডিগ্রি কলেজ, মাতৃপীঠ সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়, হাসান আলী সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় ও আল-আমিন স্কুল এন্ড কলেজ। একই সভায় ২৬ মার্চ মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবসের আলোচনা করা হয়। বিগত বছরগুলোত ২৫ মার্চ রাত ১২টা ১ মিনিটে মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতি স্মারক ভাস্কর্য অঙ্গীকারে পুষ্পস্তবক অর্পণ করা হতো, তা আর রাতের বেলায় করা হবে না। ২৬ মার্চ সূর্যোদয়ের সাথে সাথে সকাল ৫টা ৫৭ মিনিটে পুষ্পস্তবক অর্পণ করা হবে। এর প্রধানত কারণ হলো সকাল ৭টা ৯ মিনিটে মহামান্য রাষ্ট্রপতি ও মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জাতীয় স্মৃতিসৌধে পুষ্পস্তবক অর্পণের বিষয়টি যথাযথভাবে গ্রহণ করা হয়েছে। সেজন্য জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে একই সময়ে পুষ্পস্তবক অর্পণ করার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়েছে। এ সময় বক্তব্য রাখেন পুলিশ সুপার শামসুন্œাহার, জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আবু নঈম পাটওয়ারী দুলাল, চাঁদপুর প্রেসক্লাবের সাাবেক সভাপতি বি.এম হান্নান, বর্তমান সাধারণ সম্পাদক জি.এম শাহীন, নৌ-পুলিশের এ.এস.পি কাজী আব্দুল কাইয়ুম, জেলা সহকারি প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার মোঃ কবির উদ্দিন প্রমুখ। এ সময় উপস্থিত ছিলেন জেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের ডেপুটি কমান্ডার আব্দুল হাফিজ খান, মুক্তিযোদ্ধা মহসিন পাঠান, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা উদয়ন দেওয়ান, জেলা শিশু বিষয়ক কর্মকর্তা কাউছার আহমেদ সহ সরকারি বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তাগণ।
