আগামীকাল ৭ জানুয়ারি শনিবার অনুষ্ঠিত হবে চাঁদপুর গণি মডেল উচ্চ বিদ্যালয়ের শতবর্ষ পূর্তি ও প্রাক্তন ছাত্র পুনর্মিলন উৎসব। এ উৎসবকে ঘিরে পুরো চাঁদপুর শহর যেনো এখন বিদ্যালয়ের প্রাক্তণ ছাত্রদের মিলন মেলায় পরিণত হয়েছে। গতকাল থেকেই সাবেক ছাত্রদের চাঁদপুর শহরে আসতে দেখা গেছে। স্কুল ভবনটি আলোক সজ্জায় সজ্জিত করা হয়েছে। চাঁদপুর স্টেডিয়ামে শনিবার দিনব্যাপী এ পুনর্মিলনী উৎসব ও শতবর্ষ পূর্তি অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হবে। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রী মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়া বীর বিক্রর এমপি।
শতবর্ষ পূর্তি ও প্রাক্তন ছাত্র পুনর্মিলনী উৎসবটিকে কেন্দ্র করে উপদেষ্টা পরিষদ, মূল উদ্যাপন পরিষদ এবং ২১টি উপ-পরিষদ গঠন করা হয়েছে। এসব পরিষদের সদস্যবৃন্দ গত অক্টোবর মাস থেকে প্রায় ২১টি সভা করেছে। ইতোমধ্যে এ স্কুলের সাড়ে ৯শ’ প্রাক্তন ছাত্র রেজিস্ট্রেশন করেছেন। এছাড়া তাদের আত্মীয়স্বজন রেজিস্ট্রেশন করেছেন প্রায় ৫শ’ জন।
অনুষ্ঠান উপলক্ষে ৪ রংয়ের ১২০ পৃষ্ঠার একটি আকর্ষণীয় স্মরণিকা প্রাকাশ করা হচ্ছে এবং অনুষ্ঠানের দিন স্থানীয় কয়েকটি পত্রিকায় বিশেষ ক্রোড়পত্র প্রকাশ করা হবে। গণি মডেল উচ্চ বিদ্যালয়ের গেট, দেয়ালসহ পুরো ভবনটি রং করে ৩১ ডিসেম্বর রাত থেকেই লাইটিং করা হয়েছে। আর ওই রাতেই ১২টা ১ মিনিটে মুক্তিযুদ্ধকালীন বিএলএফ কমান্ডার এ বিদ্যালয়ের প্রাক্তন ছাত্র হানিফ পাটওয়ারীর নেতৃত্বে গণি স্কুলের ছাদ থেকে কয়েকটি আকর্ষণীয় আতশবাজি ফুটিয়ে শত বছর পূর্তি উৎসবের শুভ সূচনা করা হয়েছে।
এ অনুষ্ঠানকে কেন্দ্র করে শহরের প্রতিটি গুরুত্বপূর্ণ মোড় ও গুরুত্বপূর্ণ স্থানে ব্যানার ফেস্টুন ও আলোকসজ্জা দ্বারা সুসজ্জিত করা হয়েছে। আজ শুক্র ক্রীড়া উপ-কমিটির আয়োজনে বিভিন্ন খেলাধুলা অনুষ্ঠিত হবে। অনুষ্ঠানের দিন অর্থাৎ আগামীকাল ৭ জানুয়ারি সকাল সাড়ে ৭টায় গণি স্কুলে যারা রেজিস্ট্রেশন করেছেন সে সব প্রাক্তন ছাত্রদের সমাবেশ অনুষ্ঠিত হবে এবং প্রত্যেককে বিভিন্ন উপহার সামগ্রী প্রদান করার পর সকাল সাড়ে ৮টায় এ স্কুল হতে একটি আনন্দ শোভাযাত্রা বের হয়ে চাঁদপুর স্টেডিয়ামে গিয়ে শেষ হবে। সেখানে সকালের নাস্তা পরিবেশন করার পর সকাল সাড়ে ৯টায় মূল অনুষ্ঠান শুরু হবে।
মূল অনুষ্ঠান উদ্বোধন করবেন এ বিদ্যালয়ের প্রাক্তন ছাত্র চাঁদপুরের সর্বজন শ্রদ্ধেয় আলহাজ্ব ডাঃ এম এ গফুর। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন চাঁদপুরের কৃতী সন্তান, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রী মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়া বীর বিক্রম এমপি। জাতীয় পতাকা উত্তোলনের পর পায়রা ও বেলুন উড়ানো হবে। পুরো অনুষ্ঠান ঘিরে থাকবে আলোচনা, প্রাক্তন শিক্ষকদের সংবর্ধনা, মেধাবী শিক্ষার্থীদের বৃত্তি প্রদান, প্রাক্তন ছাত্র এবং বিভিন্ন ক্ষেত্রে অবদান রাখার জন্যে সম্মাননা ক্রেস্ট প্রদান, শিশু, নারী ও পুরুষদের জন্যে বিভিন্ন খেলাধুলা, স্মৃতিচারণ, পরিচিতি পর্ব, স্মরণিকার মোড়ক উন্মোচন ও র্যাফেল ড্র। এতে থাকছে প্রথম পুরস্কার ঢাকা-ব্যাংকক-ঢাকা টিকেট, দ্বিতীয় পুরস্কার ঢাকা-কলিকাতা-ঢাকা টিকেট, ৩য় পুরস্কার ঢাকা- কঙ্বাজার-ঢাকা টিকেটসহ ১০১টি আকর্ষণীয় পুরস্কার। র্যাফেল ড্র টিকেটের মূল্য মাত্র ২০ টাকা। এছাড়া দুপুরের খাবার ও বিকেলের বিশেষ নাস্তার কুপন থাকছে।
সব শেষে থাকবে চাঁদপুর, ঢাকা, চট্টগ্রাম, সিলেট ও বান্দরবান থেকে আগত শিল্পীদের পরিবেশনায় মনোজ্ঞ সাংকৃতিক অনুষ্ঠান। আরও থাকবে পাওয়ার ভয়েজ ও যাত্রীর ব্যান্ড শো। সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের পূর্বে থাকবে ব্যাপক আতশবাজির ঝলকানি ও যাদু। রাত সাড়ে ১১টা পর্যন্ত একটানা অনুষ্ঠান চলবে।
অনুষ্ঠানস্থলে আসার জন্যে প্রত্যেককে চেস্ট কার্ড ব্যবহার করতে হবে। চেস্টকার্ড ব্যতিত কাউকে অনুষ্ঠানে প্রবেশ করতে দেয়া হবে না। তাই পূর্ব থেকেই যারা রেজিস্ট্রেশন করেছেন তাদের ও তাদের আত্মীয়স্বজনকে চেস্টকার্ড সংগ্রহ করার জন্যে বিশেষভাবে অনুরোধ করা হয়েছে।
