শওকতআলী, চাঁদপুর সংবাদদাতা ॥ চাঁদপুরের হাইমচর ও মোহনপুর এলাকায় মেঘনা নদীতে জাটকা সংরক্ষন অভিযানে৬ জেলেকে ১ বছর ৬ মাস, ২ জেলেকে ১ বছর দশ মাস করে ও ১ জেলেকে ১ মাস কারাদন্ড দিয়েছে ভ্রাম্যমান আদালত। বুধবার রাতে হাইমচর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আবু হাসনাত মো. মইনউদ্দিন ভ্রাম্যমান আদালত পরিচালনা করেন। সাজাপ্রাপ্ত জেলেরা হচ্ছেন: মো. দুলাল মিজি (৩০), আক্তার হোসেন (২১), সাহেব আলী (৩২), বশির ভুঁইয়া (২৭), মনির হোসেন (২৬), মো. শাহিদ উল্যাহ (২৮)। এদের বাড়ী সদর উপজেলার হানারচর ইউনিয়নের গোবিন্দপুর গ্রামে।
হাইমচর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আবু হাসনাত মো. মঈনউদ্দিন জানান, বুধবার রাত দেড়টায় হাইমচর নৌ-পুলিশ অভিযান চালিয়ে মেঘনা নদীতে জাটকা নিধন অবস্থায় জেলেদের আটক করেন। রাতে তাদেরকে সাজা প্রদান শেষে চাঁদপুর জেলা কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
অপর দিকে চাঁদপুরের মতলব উত্তর উপজেলায় মোহনপুর এলাকায় জাটকা নিধনের অপরাধে দুই জেলেকে ১ বছর দশ মাস করে কারাদন্ড দিয়েছে ভ্রাম্যমান আদালত।
বুধবার গভীর রাতে জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. সাইফুল ইসলাম এদেরকে আটক করে। বৃহস্পতিবার বিকেলে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. সাইফুল ইসলাম আভ্রাম্যমান আদালত পরিচালনা করেন।
সাজাপ্রাপ্ত জেলো হচ্ছেন: মুন্সীগঞ্জ জেলার সদর থানার বালিয়া গ্রামের আব্দুস সোবহানের ছেলে মো. অলক মিয়াজী (৩৪), একই গ্রামের আব্দুল হাই মিজির ছেলে মো. খোরশেদ আলম (৩৬)। এ ছাড়া ৩নং কল্যানপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান সাখায়াত হোসেন রনি মেঘনা নদীতে সরকারী আইন অমান্যকরে জাটকা নিধন করার আপরাধে বৃহস্পতিবার দুপুরে মজিবুর রহমান(৩০) নামে এক জেলেকে আটক করে। পরে সদর নির্বাহী কর্মকতা উদয়ন দেওয়ান বিকেলে ভ্রাম্যমান আদালতে তাকে ১মাসের বিনাশ্রম কারাদন্ড প্রদান করেন।
চাঁদপুর জেলা মৎস্য কর্মকর্তা সফিকুর রহমান বলেন, হাইমচর, মোহনপুর ও কল্যানপুর এলাকায় টাস্কফোর্স এর সদস্যরা ৯ জেলেকে আটক করে। এ সময় ৩০ হাজার বর্গমিটার কারেন্টজাল ও ২৫ কেজি জাটকা জব্দ করা হয়। দন্ড প্রাপ্ত জেলেদেরকে বুধবার রাতেও বৃহস্পতিবার (২ মার্চ) বিকেলে চাঁদপুর কারাগারে পাঠানো হয় বলে জানান। মার্চ-এপ্রিল দুই মাস চাঁদপুর জেলার মতলব উত্তর উপজেলার ষাটনল থেকে হাইমচর চরভৈরবী পর্যন্ত জাটকা ইলিশের অভয়াশ্রম এলাকা হওয়ায় মেঘান-পদ্মা নদীতে সকল ধরনের মাছ আহরণ নিষিদ্ধ করেছে সরকার।
