বেশ ভালোই লাগছে মেধাবী খেতাবপ্রাপ্ত ভাই-বোনদের উপস্থাপনা। ছোট কিছু দ্বিধা ছিল আমার…! যদি অনুগ্রহ করে মেধাবী ভাই-বোনেরা সেগুলোর সদুত্তর দিতেন,কৃতার্থ হতাম ।
★পয়েন্ট-১ঃ
এই যে পাবলিক সার্ভিস পরীক্ষা থেকে শুরু করে সকল সরকারী চাকুরীর পরীক্ষা নিয়মিতকরণ হল সেটা কিভাবে হল এবং কার জন্য হলো…?
★পয়েন্ট-২ঃ
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, বুয়েট,মেডিকেলের মেধাবী শিক্ষর্থীরা যে সরকারী চাকুরীর প্রতি এত অবজ্ঞা দেখাতেন আজ উনারাই কেন প্রজাতন্ত্রের কর্মচারী হতে যারপরনাই উৎসুক হয়ে উঠেছেন? এর কারন কি সরকার প্রদত্ত উচ্চ বেতন ভাতা আর উঁচু সম্মান…? যদি তাই হয়, এতসবের ব্যবস্থা দেশের শ্রেষ্ঠ মেধাবীদের জন্য কে করে দিয়েছেন?
★পয়েন্ট-৩ঃ
প্রচলিত কোটা পদ্ধতির বাহিরে হাওয়া ভবন কোটা, রাজনৈতিক কর্মী কোটা,ক্ষমতাবানদের অর্ডারে দিতে বাধ্য কোটা কি এখন দৃশ্যমান আছে..? যদি না থাকে সেটা কখন থেকে নেই এবং কার জন্য নেই ?
★পয়েন্ট-৪ঃ
স্বাধীনতা উত্তর গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের নিয়োগ বিধিতে যে অনুপাতে কোটা সংরক্ষণের কথা উল্লেখ ছিল,৭৫ পরবর্তী সময়ে সেটা কেন সঠিক ভাবে সংরক্ষিত হয় নি..? বরং সংরক্ষিত কোটার যে অংশটি মুক্তিযোদ্ধাদের জন্য বরাদ্ধ ছিল,সেটিতে ভয়ংকর রকম দূর্বিত্তায়ন হওয়ায় প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধারা কোটার সুবিধা নেওয়া দূরে থাক নিজেদের পরিচয় দিতেই ভীত সন্ত্রস্ত ছিল,পাছে উনাদের পরিবার ভয়াবহ কোনো হুমকির মুখে না পড়ে…? এসবের কারন কি ছিল…? আর আজকের দিনে যদি পুরোনো সেই কলংকগাঁথা না থাকে, তবে শ্রেষ্ট সন্তানদের সম্মান পুনর্বহাল কে করেছে । ( আমি ক্ষমা চেয়ে নিচ্ছি,রাজনৈতিক পট পরিবর্তনের সুযোগে আজকের হয়ত কিছু সংখ্যক ভূয়া সার্টিফিকেট ধারী মুক্তিযোদ্ধাও রয়েছে এবং এসবের বেশিরভাগই হয়েছে কখন সেটা কারোই অজানা নয়। বর্তমান সরকার খুব সম্ভবত ১৩ হাজার মুক্তিযোদ্ধা সারর্টিফিকেট প্রদান করেছে কিন্তু তার প্রায় কয়েকগুন আবেদন জমা পড়ে আছে মন্ত্রনালয়ে।)
★পয়েন্ট-৫ঃ
দেশের উচ্চ শিক্ষা প্রতিষ্ঠান গুলোকে আধুনিকায়ন করা,শিক্ষার্থী-শিক্ষক-কর্মকর্ তা-কর্মচারীদের বাসস্থান থেকে শুরু করে সকল প্রকার সুযোগ সুবিধার সর্বোচ্চ ব্যবস্থা নিয়েছেন কে…? অনলাইন আর্কাইভে না থাকুক,বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের লাইব্রেরীর পত্রিকা আর্কাইভ গুলো থেকে প্রয়োজনে হিসেব গুলো মিলিয়ে নিন ।
★পয়েন্ট-৬ঃ
একদশক আগেও এদেশের শিক্ষার্থীদের উচ্চ শিক্ষার জন্য দেশের বাহিরে যেতে কতটা বেগ পেতে হত,সেটা দশক পূর্বের কোনো সিনিয়রের কাছ থেকে সহজেই জানতে পারবেন । অথচ আজকের দিনে স্বীয় মেধাকে শানিত করতে উচ্চ শিক্ষার নিমিত্তে কেউ প্রবাস যেতে চাইলে সর্বোচ্চ সহযোগিতা করে রাষ্ট্র,এমনকি রাষ্ট্রীয় অর্থায়নেও অনেকে উচ্চ শিক্ষা নিচ্ছেন বিশ্বের নামীদামি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে। রাষ্ট্রযন্ত্রের এহেন আচরণের পিছনের মানুষটি কে..?
………উত্তর এতক্ষণে নিশ্চয়ই ভেবে নিয়েছেন। এতসবের পরেও আপনারা বিভ্রান্ত হয়ে পড়েন ষড়যন্ত্রকারীদের উস্কানিতে । যে কোটা সংস্কার নিয়ে এত হুলস্থুল করলেন আপনারা,এটাতো নতুন কিছু নয়। ৮০ ‘র দশকেও এটাকে অস্র হিসেবে ব্যবহারের পায়তারা হয়েছে এবং সেটা কারা করেছে কিংবা কেন করেছে একটু পুরোনো ইতিহাস নাড়াচাড়া করলেই আপনারা পেয়ে যাবেন কাঙ্খিত উত্তর । গত ৮ এপ্রিল রাতে যে ভয়াবহ সন্ত্রাস দাঁনা বেঁধেছিল সাধারণ শিক্ষার্থীদের সামনে রেখে,সেটা এখনো আমার ভেতরটা নাড়িয়ে দেয়। জানি না আপনাদেরও একই বোধ হয় কিনা..? ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের যে সকল ছাত্রী বোনেরা উপস্থিত উত্তেজনায় হলের গেট ভাঙ্গার প্রয়াস চালিয়ে মধ্যরাতে রাস্তায় এসেছেন আপনার দাবী নিয়ে,একটু শান্ত মস্তিষ্কে ভাবুন…কত দুর্ঘটনাই ঘটতে পারত সে রাতে ; আর যে দাবী নিয়ে আপনারা এসেছেন সেটা বাস্তবায়ন হলে আদৌতে কাদের লাভ হয় এবং আপনার জন্য সেটা আদৌ লাভজনক কিনা…? প্রচন্ড দুঃখবোধ হয় যখন দেখি সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমে আপনাদের খাবার মিল আর থাকার ভাড়া নিয়ে মন্তব্য করায় আপনারা যারপরনাই ক্ষিপ্ত হয়ে যাচ্ছেতাই ভাষায় সেই মানুষটিকে নিয়ে মন্তব্য করে যাচ্ছেন, যিনি একই বক্তব্যে আপনাদের নিরাপত্তা নিয়ে সবথেকে বেশি উদ্বিগ্ন অবস্থান দেখিয়েছেন । অথচ আপনারা উনার উদ্বিগ্নতা অনুভব করবার অবকাশ পাচ্ছেন না,কেবল আপনাদের সম্মুখে উপস্থাপিত খন্ডিত বাক্যাংশটুকুই নজরে নিয়ে ক্রীড়ানকদের পাশার জটিল চালকে প্রশ্রয় দিয়ে যাচ্ছেন। যার কাছ থেকে এত পেলেন, তার অবস্থানে ক্ষাণিক সময়ের জন্য নিজেকে ভাবুন এবং এরপর মন্তব্য করুন !!
মনে রাখবেন,আমাদের স্বাধীনতা-সার্বোভৌমত্ব অর্জনের প্রাক্কালে অর্থাৎ ১৯৭১ এর মহান মুক্তিযুদ্ধের সময়েও এখানকার প্রায় ৩০ শতাংশ মানুষ চায় নি আমার স্বাধীন জাতি হিসেবে আত্মপ্রকাশ করি । তারাতো যুদ্ধোত্তর এই স্বাধীন বাংলাদেশেই বসবাস করে আসছেন এবং বংশ পরম্পরায় সেটা কিন্তু রয়েই যাচ্ছে । আমি বলছি না,সেই ৩০ ভাগের পরবর্তী বংশধরদের সবাই তাদের পূর্ব পুরুষদের মতাদর্শী হবে; কিন্তু একটা বড় অংশ কিন্তু তাই হয় । এটা আমার কথা নয়,সমাজবিজ্ঞানের কথা । সমাজবিজ্ঞান বলে- ‘শিশুর বিকাশের মূল প্রতিষ্ঠান যে তার পরিবার।’
একটু নিজের প্রসঙ্গে বলব,আমি নিজেও একজন মুক্তিযোদ্ধার সন্তান। কিন্তু বর্তমান প্রেক্ষাপটে সম্ভবত আমি সৌভাগ্যবানই কারন যুদ্ধপরবর্তী কোনো সময়ে আমার বাবাসহ তার বেশ কয়েকজন বন্ধু তাদের কোনো একজন কমান্ডিং অফিসারের সাথে মনোমালিন্যবশতঃ তাদের সার্টিফিকেট নষ্ট করেছিলেন । পরবর্তীতে বাবার বন্ধুদের কয়েকজন তাদের সনদ পুনঃনবায়ন করলেও আমার বাবা এবং তার অত্যন্ত ঘনিষ্ট একজন বন্ধু সেটা করেননি । এই সার্টিফিকেট এত মূল্যবান এটা যখন আমি বুঝতে পারলাম একবার বাবাকে বলেছিলাম, “আব্বু আপনি চাইলে এটা নবায়ন করতে পারেন।” তিনি প্রতিউত্তরে আমাকে যেটা বলেছিলেন এরপর আমি মনে করি না যে আমার বাবার ঐ কথা থেকে এই মুক্তিযোদ্ধা সার্টিফিকেট বেশি মূল্যবান হবে । তিনি বলেছিলেন, “এই যে জীবনের এই পর্যায় পর্যন্ত এসেছ,কখনো সারর্টিফিকেটের প্রয়োজন বোধ করেছ কি..? বাকী সময়টা নিজ যোগ্যতায় পার হয়ে যাবে ইনশাল্লাহ ।” সারর্টিফিকেট থাকলে হয়তো অকথ্য ভাষার গালাগাল আমার কারণে আমার বাবাকেও হজম করতে হতো…! কতটা নিচে নেমেছি আমরা..? প্রজন্মের কতক অংশের নিকট আজ #মুক্তিযোদ্ধা শব্দটি গালি আর #রাজাকার শব্দটির মতো নিকৃষ্ট শব্দ হয় বুলি…..!!
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন আপনাদের কাতারের সাধারণ শিক্ষার্থী হয়ে,বাংলাদেশের স্বাধীনতা-সার্বোভৌমত্বে বিশ্বাস রাখা একজন বাঙ্গালী হয়ে, সর্বোপরি একজন ছাত্রকর্মী হয়ে আমি পূর্ণ আস্থা রাখি বাংলাদেশের সর্বাপেক্ষা শ্রেষ্ঠ মানবিক ও প্রজ্ঞাবান প্রধানমন্ত্রী দেশরত্ন শেখ হাসিনার উপর,যিনি বর্তমান বিশ্বে কেবল এদেশের আপামর মানুষের নেতাই নন,বরং স্বীয় মেধা-দক্ষতা-সাহসিকতা-ব্যক্তিত্ ব দিয়ে বিশ্বের সকল মানুষের কাছে বিশ্বনেতার স্থান করে নিয়েছেন, যেটা বর্তমান বিশ্বের প্রভাবশালী প্রায় সকল নেতাই বিভিন্ন আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে ইতোমধ্যেই প্রকাশ করেছেন ।
জয় বাংলা,জয় বঙ্গবন্ধু ।।
জয়তু দেশরত্ন শেখ হাসিনা ।।
বাংলাদেশের ক্রমবর্ধমান উন্নয়ন দীর্ঘস্থায়ী হোক।।
………………………… …………………..
ভূঁইয়া মোঃ ফয়েজউল্লাহ মানিক
★কার্যনির্বাহী সদস্য, বাংলাদেশ ছাত্রলীগ;
★সাবেক সহ-সভাপতি,ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগ;
★সাবেক উপ-গ্রন্থনা ও প্রকাশনা সম্পাদ, ড.মুহম্মদ শহীদুল্লাহ হল ছাত্রলীগ;
★সাবেক সভাপতি,স্লোগান’৭১,টিএসসি,ঢাবি. ;
★সাবেক সদস্য,ঢাকা ইউনিভার্সিটি ডিবেটিং সোসাইটি;
(১৪/০৭/২০১৮ -ফেইসবুক থেকে)
