এক চুলার জন্য ৭৫০ (বর্তমানে ৬০০) ও আগামী জুন মাস থেকে ৯০০ টাকা বিল দিতে হবে।
দুই চুলার জন্য আগামী মাস থেকে ৮০০ (বর্তমানে ৬৫০) এবং জুন মাস থেকে ৯৫০ টাকা বিল দিতে হবে।
সব শ্রেণির গ্রাহকের জন্য গ্যাসের দাম বাড়ল। বর্তমানের চেয়ে গড়ে দাম বাড়ানো হয়েছে ২২ দশমিক ৭ শতাংশ। তবে দুই দফায় প্রায় সমহারে এই দাম বৃদ্ধি কার্যকর হবে। গতকাল বৃহস্পতিবার বিকেলে এই দাম বাড়ানোর আদেশ দিয়েছে বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি)।
প্রথম দফায় আগামী ১ মার্চ ও দ্বিতীয় দফায় ১ জুন থেকে দাম বাড়বে। অর্থাৎ, মার্চ মাসের গ্যাসের বিল দিতে হবে বাড়তি দামে। এরপর জুন মাসের বিলে তা আরও এক দফা বাড়বে। গ্যাসের দাম বাড়ানোর ফলে সার, বিদ্যুৎ ও শিল্পে উৎপাদনের ব্যয় বাড়বে, যার ভার শেষ পর্যন্ত ভোক্তাদের ঘাড়েই চাপবে। এ ছাড়া সিএনজির দাম বাড়ালে পরিবহন ভাড়াও বাড়বে। এটিও বহন করতে হবে ভোক্তা ও যাত্রীদের।
দেড় বছরের মধ্যে আবার গ্যাসের এই দাম বাড়ানোকে সম্পূর্ণ অযৌক্তিক বলেছেন ক্যাবের জ্বালানি উপদেষ্টা। সিএনজির দাম বাড়ানোর সিদ্ধান্তের প্রতিবাদ জানিয়েছে সিএনজি স্টেশন ও কনভার্সন ওয়ার্কশপ মালিক সমিতি। দাম বাড়ানোর সিদ্ধান্তকে অযৌক্তিক বলেছে বিএনপি। গ্যাসের দাম বাড়ানোর প্রতিবাদে সিপিবি ও বাসদ আজ শুক্রবার বিকেল সাড়ে চারটায় জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে বিক্ষোভ সমাবেশ ও মিছিলের কর্মসূচি দিয়েছে।
বিইআরসির আদেশ অনুযায়ী আগামী মাস থেকে আবাসিক গ্রাহকদের এক চুলার জন্য ৭৫০ (বর্তমানে ৬০০) ও আগামী জুন মাস থেকে ৯০০ টাকা বিল দিতে হবে। দুই চুলার জন্য আগামী মাস থেকে ৮০০ (বর্তমানে ৬৫০) এবং জুন মাস থেকে ৯৫০ টাকা বিল দিতে হবে। যেসব আবাসিক গ্রাহকের মিটার আছে, আগামী মাস থেকে তাঁদের ক্ষেত্রে প্রতি ঘনমিটার ৯ টাকা ১০ পয়সা এবং জুন মাস থেকে ১১ টাকা ২০ পয়সা ধার্য করা হয়েছে।
যানবাহনে ব্যবহৃত সিএনজির দাম মার্চ থেকে প্রতি ঘনমিটার হবে ৩৮ টাকা (বর্তমানে ৩৫) এবং জুন থেকে ৪০ টাকা ধার্য করা হয়েছে।
বিদ্যুৎকেন্দ্র, ব্যক্তিমালিকানাধীন প্রতিষ্ঠানের বিদ্যুৎ উৎপাদন (ক্যাপটিভ পাওয়ার), সার কারখানা, শিল্প, বাণিজ্যিক, চা-বাগান প্রভৃতি ক্ষেত্রেই গ্যাসের দাম বাড়ানো হয়েছে। তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) আমদানির ফলে গ্যাসের দাম যে হারে বাড়বে, তা এবারের দাম বাড়ানোর ক্ষেত্রে বিবেচনায় নেওয়া হয়নি।
বিইআরসির চেয়ারম্যান মনোয়ার ইসলাম দাম বাড়ানোর আদেশ দেওয়ার সময় বলেছেন, যে দামে গ্যাস কেনা হয়, বিক্রি করা হয় তার চেয়ে কম দামে। কেনা ও বেচার দামের মধ্যকার ব্যবধান দূর করা এবং দেশের সব মানুষের জন্য জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করাই দাম বাড়ানোর লক্ষ্য। এ ক্ষেত্রে ভোক্তাদের দায়ভার যেন বেশি না বাড়ে, সেদিকে খেয়াল রাখা হয়েছে।
কনজ্যুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ক্যাব) জ্বালানি উপদেষ্টা এস এম শামসুল আলম প্রথম আলোকে বলেন, এই দাম বাড়ানো জনস্বার্থের অনুকূল নয়। কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন-ভাতা বৃদ্ধির জন্য বাড়তি যে অর্থ গ্যাস খাতের সংস্থাগুলোর প্রয়োজন, তার সংস্থান তাঁদের নিজস্ব তহবিলের উদ্বৃত্ত অর্থ দিয়েই করা সম্ভব। গ্যাস খাতের প্রতিটি কোম্পানির হাতে বিপুল পরিমাণ উদ্বৃত্ত অর্থ রয়েছে, যা এই খাতের উন্নয়নের কোনো কাজে লাগছে না। এই অবস্থায় গ্যাসের দাম বাড়ানো সম্পূর্ণ অযৌক্তিক। তিনি বলেন, এই অযৌক্তিক সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে গ্রাহকদের পক্ষ থেকে হাইকোর্টে রিট আবেদন করবে ক্যাব।
সিএনজির দাম বাড়ানোর সিদ্ধান্তের প্রতিবাদ জানিয়েছে সিএনজি স্টেশন ও কনভার্সন ওয়ার্কশপ মালিক সমিতি। সমিতির সাধারণ সম্পাদক ফারহান নূর প্রথম আলোকে বলেন, সিএনজির দাম বাড়ানোর কারণে সব ধরনের গণপরিবহনের ভাড়াই বাড়িয়ে দেওয়া হবে, যার ওপর সরকারের নিয়ন্ত্রণ থাকবে না। সিএনজির ব্যবহারও কমবে, যার বিরূপ প্রভাব পড়বে পরিবেশের ওপর। সর্বোপরি দাম বাড়ানো হলেও তাঁদের মার্জিন বাড়ানো হয়নি। অথচ তিন বছর আগেই তা বাড়ানোর সিদ্ধান্ত ছিল।
বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি (সিপিবি) ও বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দল (বাসদ) গ্যাসের দাম বাড়ানোর প্রতিবাদ জানিয়েছে। সিপিবির সভাপতি মুজাহিদুল ইসলাম সেলিম ও সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ আবু জাফর আহমেদ এবং বাসদের সম্পাদক খালেকুজ্জামান গতকাল যৌথ বিবৃতিতে এই প্রতিবাদ ও নিন্দা জানান।
বিইআরসি সূত্র বলেছে, পেট্রোবাংলা প্রথমে প্রস্তাব দিয়েছিল গ্যাসের দাম গড়ে ৯০ শতাংশের বেশি বাড়ানোর। কিন্তু গণশুনানির সময় তা কমিয়ে প্রায় ৬৫ শতাংশ বাড়ানোর সংশোধিত প্রস্তাব দেয়। ওই প্রস্তাবের ওপর শুনানিতে অনেক বিষয় উঠে আসে, যাতে ৬৫ শতাংশ দাম বাড়ানোর যৌক্তিকতা প্রমাণিত হয়নি। এর পরিপ্রেক্ষিতে বিইআরসি ২২ দশমিক ৭ শতাংশ দাম বাড়ায়। এর আগে ২০১৫ সালের ১ সেপ্টেম্বর থেকে কয়েকটি শ্রেণির গ্রাহকের গ্যাসের দাম বাড়ানো হয়। সব গ্রাহক শ্রেণির ক্ষেত্রে গ্যাসের দাম সর্বশেষ বাড়ানো হয় ২০০৯ সালের জানুয়ারিতে।
বিইআরসির চেয়ারম্যান মনোয়ার ইসলামের নেতৃত্বে পাঁচ সদস্যের পূর্ণাঙ্গ কমিশন দাম বাড়ানোর আদেশ দেওয়ার অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন। কমিশনের সদস্যরা হলেন রহমান মুর্শেদ, মাহমুদউল হক ভূঁইয়া, আবদুল আজিজ খান ও মিজানুর রহমান।
