বাংলাদেশ পুলিশে গৌরবদীপ্ত অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ উইমেন পুলিশ অ্যাওয়ার্ড পেয়েছেন চাঁদপুরের পুলিশ সুপার শামসুন্নাহার পিপিএম। ২০১৫ সালের ১২ জুন এ জেলায় যোগদান করার পর তিনি তাঁর দায়িত্ব ও কর্তব্য পালনকালে সেবার মনোভাব নিয়ে অত্যন্ত সততা, নিষ্ঠা, পেশাদারিত্ব ও দৃঢ়তার সাথে অপরাধ দমন, মাদক, ইভটিজিং ও বাল্যবিবাহ রোধকল্পে নানামুখী ব্যতিক্রমধর্মী কার্যক্রম গ্রহণ করেছেন এবং নারী ও শিশুর অভিযোগ সাক্ষাৎকার গ্রহণের মাধ্যমে নিষ্পত্তির নিমিত্তে নারী ও শিশু সেল গঠন করেন। এ পর্যন্ত পুলিশ সুপার ১৫০১ জন নারী ও শিশুর অভিযোগগ্রহণ করে তদন্তের মাধ্যমে ১৩৮২টি অভিযোগের নিষ্পত্তি করেছেন। এছাড়া এই প্রথম চাঁদপুরে চালু করেন জঙ্গি, মাদক, বাল্যবিবাহ ও ইভটিজিংয়ের বিরুদ্ধে জনসচেতনতা সৃষ্টির লক্ষ্যে প্রচারণা, পথসভা, স্কুল-কলেজ শিক্ষার্থীদের নিয়ে রচনা প্রতিযোগিতা এবং যুব ফুটবল টুর্নামেন্ট। সামাজিক এসব কর্মকা-ের দরুণ চাঁদপুর জেলাবাসীর মাঝে পুলিশের আস্থা এবং ভাবমূর্তি বৃদ্ধি পেয়েছে। সমাজে সৃষ্টি হয়েছে স্থিতিশীলতা এবং জনমনে বিরাজ করছে শান্তি ও স্বস্তি। জনস্বার্থে এসব কার্যক্রম গ্রহণ করায় এসপি শামসুন্নাহার পিপিএমকে ২০১৮ সালে বাংলাদেশ নারী পুলিশ পদক প্রদানের জন্যে নির্বাচিত করা হয়।
৬টি ক্যাটাগরিতে এ বছর ২০ জন নারী পুলিশ কর্মকর্তাকে তাঁদের ভালো কাজের স্বীকৃতিস্বরূপ অ্যাওয়ার্ড প্রদান করা হয়। এ উপলক্ষে বৃহস্পতিবার রাতে রাজধানীর রাজারবাগ পুলিশ লাইন্সের অডিটোরিয়ামে বাংলাদেশ উইমেন পুলিশ অ্যাওয়ার্ড প্রদান অনুষ্ঠান-২০১৮ অনুষ্ঠিত হয়। জাঁকজমকপূর্ণ এ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন কৃষিমন্ত্রী মতিয়া চৌধুরী। বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান, সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী ডাঃ দীপু মনি এমপি ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জননিরাপত্তা বিভাগের সচিব মোস্তফা কামাল উদ্দীন। সভাপ্রধান ছিলেন বাংলাদেশ পুলিশের ইন্সপেক্টর জেনারেল ড. মোহাম্মদ জাবেদ পাটওয়ারী বিপিএম (বার)। স্বাগত বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ পুলিশ উইমেন নেটওয়ার্ক সভাপতি মিলি বিশ্বাস পিপিএম এবং অনুষ্ঠান সঞ্চালনায় ছিলেন এআইজি (মিডিয়া এন্ড পিআর) সহেলী ফেরদৌস। পরে মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান পরিবেশিত হয়। আমন্ত্রিত নারী সংসদ সদস্যগণ, পুনাক সভানেত্রী বেগম হাবিবা হোসেনসহ অন্যান্য অতিথি, বিভিন্ন পর্যায়ের পুলিশ কর্মকর্তাগণ উপস্থিত থেকে নারী পুলিশ অ্যাওয়ার্ড প্রদান অনুষ্ঠান-২০১৮ উপভোগ করেন।
প্রধানমন্ত্রীর চাঁদপুর আগমনকে ঘিরে কর্মব্যস্ত থাকায় অ্যাওয়ার্ডপ্রাপ্ত এসপি শামসুন্নাহার উক্ত অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকতে পারেন নি। তাঁর পদকটি প্রধান অতিথির কাছ থেকে গ্রহণ করেন এআইজি সহেলী ফেরদৌস। অনুষ্ঠানের বিশেষ অতিথি ডাঃ দীপু মনি এমপিকে অতিথি-ক্রেস্ট প্রদান করা হয়।
কৃষিমন্ত্রী মতিয়া চৌধুরী বলেছেন, নারীরা শোপিচ নয়, কারো করুণাতেও নয়। নিজেদের দক্ষতা, যোগ্যতার প্রমাণ দিয়েই নারীরা এগিয়ে যাচ্ছে। দক্ষতার বলেই সমাজের সকল ক্ষেত্রে নারীরা জায়গা করে নিয়েছে।
তিনি আরো বলেন, যে কোনো দুর্যোগ-সংকটে নারীরা দুইবার মরে। আবার যে কোনো সংকটে নারীরাই রূখে দাঁড়ায়। নারীর অধিকার সুরক্ষায় বর্তমান সরকারের নানা পদক্ষেপের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, বিচারক, চিকিৎসক, সাংবাদিক, পুলিশ, আমলা থেকে শুরু করে সমাজের প্রতিটি ক্ষেত্রে নারীরা জায়গা করে নিয়েছে। এটা কারো করুণা কিংবা ভিক্ষায় নয়।
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল বলেন, নারীরা অত্যন্ত পেশাদারিত্ব ও দক্ষতার সাথে পুলিশে কাজ করছে। শুধু দেশে নয়, আন্তর্জাতিক পরিম-লেও নারীরা সমানতালে কাজ করে যাচ্ছে।
মন্ত্রী বলেন, নারীরা এখন আর ঘরে বসে থাকে না। দেশের অর্ধেক নারী কর্মের মাধ্যমে দেশকে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছে। পুরুষের সাথে আর নারীর বিভেদ নেই। নারী-পুরুষ সমানতালে কাজ করছে।
সভাপ্রধানের বক্তব্যে পুলিশ মহাপরিদর্শক (আইজিপি) ড. মোহাম্মদ জাবেদ পাটোয়ারী বলেন, বাংলাদেশ পুলিশে ২০০৮ সালে ২.২১ শতাংশ নারী পুলিশ ছিল। কিন্তু বর্তমান সরকারের ৯ বছরে নারী পুলিশের সংখ্যা ৬.৬৬ শতাংশে এসে দাঁড়িয়েছে। আশা করছি এ অগ্রযাত্রা অব্যাহত থাকবে। শুধু দেশে নয়, দেশের বাইরেও নারীরা বাংলাদেশের ভাবমূর্তি উজ্জ্বল করেছে।
আইজিপি বলেন, নারী পুলিশে সমপ্রতি যোগ হয়েছে নারী ট্রাফিক সার্জেন্ট। কনস্টেবল থেকে অতিরিক্ত আইজি পর্যন্ত নারী পুলিশ দক্ষতা ও পেশাদারিত্বের সঙ্গে পুরুষের পাশাপাশি দায়িত্ব পালন করছেন। আজকে যারা পদক পেয়েছেন, তারা সবাই এর প্রাপ্য। এই পদক তাদের কাজে এগিয়ে যাওয়ার অনুপ্রেরণা হিসেবে কাজ করবে।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে ছিলেন সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী ও সংসদ সদস্য ডাঃ দীপু মনি এবং স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জননিরাপত্তা বিভাগের সচিব মোস্তাফা কামাল উদ্দিন।
পদক পাবার পর এক প্রতিক্রিয়ায় পুলিশ সদর দফতরের এআইজি (মিডিয়া এন্ড পিআর) সহেলী ফেরদৌস বলেন, নেতৃত্ব সব সময় চ্যালেঞ্জিং। আর তা যদি হয় পুলিশে তাহলে বলবো নেতৃত্ব আরও কঠিন। নারী হিসেবে নয়, পুলিশ কর্মকর্তা হিসেবে তাৎক্ষণিক অনেক বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিতে হয়। ক্রাইম ডিভিশনে তাৎপর্যপূর্ণ সিদ্ধান্ত নিয়ে কাজ করা সত্যি চ্যালেঞ্জিং।
